সন্দেশখালির হোটেলে বন্দি পর্যটকরা, ঘিরে ফেলল NSG কমান্ডোরা! অ্যাকশন শুরু হতেই উদ্বেগ, আসল রহস্য ফাঁস হতেই অবাক সকলে
তরুণ নন্দী, কলকাতাঃ
সন্দেশখালির হোটেলের ভিতর বন্দি পর্যটকরা। মুহুর্তের মধ্যে ঘিরে ফেলল এনএসজি কমান্ডোরা। ভরদুপুরে হঠাৎই গোটা এলাকায় বেজে উঠল সাইরেনের বিকট শব্দ। NSG-র সাঁজোয়া গাড়ি আর কালো পোশাকে ঢাকা জওয়ানদের তৎপরতা দেখে চমকে উঠল স্থানীয়রা। হাতে অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঘিরে ফেলল ধামাখালির একটি বহুতল গেস্ট হাউস। হাওয়ার বেগে এই খবর ছড়াতেই এলাকা জুড়ে তুমুল আতঙ্কের সৃষ্টি হল। হোটেলের ভেতর ঢুকে পড়েছে বেশ কয়েকজন অস্ত্রধারী জঙ্গি এবং তারা পণবন্দি করেছে একাধিক সাধারণ পর্যটককে, এই খবরের জেরেই নাকি এতসব কাণ্ড। কি ঘটছে সবটা না জেনে অনেকেই বলাবলি করতে লাগলেন, শেখ শাহজাহানের গড় বলে পরিচিত সন্দেশখালিতে কি তবে সত্যি ঘাঁটি গেড়েছে উগ্রপন্থীরা? খবর শোনার পর থেকেই হোটেলের আশপাশে জটলা বেঁধে যায় শয়ে শয়ে কৌতূহলী মানুষের। উত্তেজনায় তখন গোটা সন্দেশখালির চোখ জওয়ানদের উপর।
দেখলে ঠিক যেন কোনো টানটান অ্যাকশন সিনেমার দৃশ্য মনে হবে। এনএসজি-র বিশেষ দল সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে ঢুকে পড়ে হোটেলের ভেতরে। ঝটকা অপারেশনে ভেতরে থাকা জঙ্গিদের পরাস্ত করে নিরাপদে বের করে আনা হয় প্রতিটি পণবন্দি পর্যটককে।
অপরেশন শেষ হতেই প্রকাশ্যে আসে আসল সত্যটা। আসলে এটি কোনো বাস্তব জঙ্গি হামলা ছিলই না । জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা বা এনএসজি-র একটি পরিকল্পিত ‘মক ড্রিল’ বা মহড়া ছিল এই তৎপরতা। প্রশাসন সূত্রে খবর, জরুরি ভিত্তিতে কোনো বড় বিপদের মোকাবিলা কিম্বা জঙ্গি হামলার মত ঘটনা ঘটলে কীভাবে দ্রুত উদ্ধারকার্য চালানো সম্ভব হবে তা পরীক্ষা করতেই বেছে নেওয়া হয়েছিল এই হোটেলটি।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে সম্প্রতি বেশ কয়েকজন পাক এজেন্ট সন্দেহে গ্রেপ্তার হয়েছে। আর তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা করতে নানাভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বলা ভালো, এদিনের মক ড্রিল তারই একটি অংশ। কয়েক দিন আগেই এনএসজি ও কলকাতা পুলিশের দল বিশেষ রেইকি ও পর্যালোচনা চালিয়েছিল কালীঘাট মন্দিরের নিরাপত্তায়। সেই ধারাবাহিক নিরাপত্তার কার্যকলাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে সন্দেশখালিতে এই নজিরবিহীন প্রস্তুতি সারল এনএসজি।
সত্যি খবরটা শেষমেষ জানতে পেরে উত্তেজনা সামলে উঠে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন সন্দেশখালির বাসিন্দারা। যারা চাক্ষুষ এই মহড়া দেখলেন তারা জওয়ানদের এই পেশাদারিত্ব ও নিখুঁত মহড়ার প্রশংসা করতে কু্ন্ঠাবোধ করলেন না। তবে পরিস্থিতি যাইহোক না কেন, বদলের বাংলায় রাজ্যের নিরাপত্তায় কোনও খামতি রাখতে চায় না বিজেপি সরকার।