সন্ত্রাসমুক্ত অঞ্চলের বার্তা, এসসিও-তে ভারতের ‘নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও সুযোগ’-এর ভাবনা তুলে ধরবেন মোদি
নয়াদিল্লি
মধ্য এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে দু’দেশের সফরে রওনা হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২৯ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উজবেকিস্তান ও কিরগিজ প্রজাতন্ত্র সফর করবেন তিনি। এই সফরে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা বা SCO-র মঞ্চে ভারতের অগ্রাধিকার হিসেবে নিরাপত্তা, যোগাযোগ এবং নতুন সুযোগের বিষয়টি তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী।
শনিবার সফরের আগে দেওয়া বিবৃতিতে মোদি বলেন, সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং চরমপন্থার মতো হুমকি থেকে মুক্ত একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল অঞ্চল গড়ে তুলতে এসসিও-র সদস্য দেশগুলির সঙ্গে একযোগে কাজ করতে চায় ভারত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সাল থেকে SCO-র সক্রিয় ও গঠনমূলক সদস্য হিসেবে ভারত আঞ্চলিক নিরাপত্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে আসছে। তাঁর কথায়, প্রতিবেশী অঞ্চল এবং তার বাইরেও শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ ও চরমপন্থা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
মোদি জানান, উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়োয়েভের আমন্ত্রণে ২৯ ও ৩০ আগস্ট তাশখন্দ সফর করবেন তিনি। এই সফরে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, ডিজিটাল যোগাযোগ, প্রতিরক্ষা এবং জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে।
ভারতের ‘বিকশিত ভারত’ এবং উজবেকিস্তানের ‘ইয়াঙ্গি উজবেকিস্তান’, এই দুই অভিন্ন উন্নয়ন ভাবনাকে কীভাবে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, তা নিয়েও উজবেক প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী।
শুধু কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নয়, দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের বিষয়টিও সফরে বিশেষ গুরুত্ব পাবে। তাশখন্দে প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর স্মৃতিসৌধ এবং তাশখন্দ স্টেট ইউনিভার্সিটি অব ওরিয়েন্টাল স্টাডিজের মহাত্মা গান্ধী কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন। এর মাধ্যমে ভারত-উজবেকিস্তানের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও জনসম্পর্কের বন্ধনকে আরও তুলে ধরা হবে।
তাশখন্দ সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী কিরগিজ প্রজাতন্ত্রের রাজধানী বিশকেকে যাবেন। সেখানে কিরগিজ প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভের আমন্ত্রণে এসসিও-র ২৬তম শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন তিনি। এবারের সম্মেলন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক সংগঠনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে নেতারা একত্রিত হচ্ছেন।
SCO সম্মেলনে ভারতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী নিরাপত্তা, আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক ও উন্নয়নমূলক সুযোগের উপর বিশেষ জোর দেবেন বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে যৌথ লড়াইয়ের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরবেন তিনি।
সম্মেলনের ফাঁকে SCO-র বিভিন্ন সদস্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করবেন প্রধানমন্ত্রী। এই বৈঠকগুলিতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
এছাড়াও কিরগিজস্তানে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ বিশ্ব যাযাবর ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও অংশ নেবেন মোদি। মধ্য এশিয়ার সমৃদ্ধ ও জীবন্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি ভারতের শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবেই এই অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, তাঁর এই সফরের মূল লক্ষ্য শুধু কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা নয়; বরং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির অভিন্ন লক্ষ্যে মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে ভারতের অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। তাঁর বার্তা স্পষ্ট, নিরাপত্তা, সংযোগ ও সুযোগকে ভিত্তি করে সন্ত্রাসমুক্ত ও স্থিতিশীল অঞ্চল গঠনে ভারত সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে চায়।