শিলিগুড়ি
নেপালে নাচের বারে কাজ দেওয়ার নাম করে পাচারের অভিযোগ। তার আগেই পশ্চিমবঙ্গের ভারত-নেপাল সীমান্তবর্তী পানিটাঙ্কি এলাকা থেকে ত্রিপুরার চার কিশোরী ও দুই মহিলাকে উদ্ধার করল নিরাপত্তারক্ষীরা। তাঁদের সঙ্গে থাকা দুই যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ওই ছয়জনকে সঙ্গে নিয়ে দুই যুবক ভারত-নেপাল আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে নেপালে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সেই সময় সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি) এবং শিশু সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা সংস্থা ‘কোশি লোক মঞ্চ’-এর সদস্যরা তাঁদের আটকে দেন। সংস্থাটি ‘জাস্ট রাইটস ফর চিলড্রেন’-এর সহযোগী সংগঠন হিসেবে কাজ করে।
ছয়জনকে নেপালে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় তাঁদের থামানো হয়। তদন্তের সঙ্গে যুক্ত এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, ছয়জনকে সীমান্ত পার করানোর জন্য সঙ্গে থাকা দুই যুবক তাঁদের সঙ্গে যাওয়ার বৈধ নথিপত্র বা উপযুক্ত কারণ দেখাতে পারেননি।
এরপর উদ্ধার হওয়া কিশোরী ও মহিলাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করেন আধিকারিকরা। জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরীরা জানান, নেপালে তাঁদের নাচের অনুষ্ঠানে কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা কোথায় যাবেন, ঠিক কোন জায়গায় কাজ করবেন এবং কতদিন নেপালে থাকবেন, এসব বিষয়ে স্পষ্ট কোনও তথ্য দিতে পারেননি।
এই অস্পষ্টতাই তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দেয়। পুলিশের এক আধিকারিকের কথায়, গোটা পরিস্থিতির মধ্যে সম্ভাব্য মানবপাচার ও শোষণের আশঙ্কা তৈরি হয়। আরও জানা যায়, উদ্ধার হওয়া ছয়জনের মধ্যে একজন কিশোরী এবং একজন মহিলা ইতিমধ্যেই ত্রিপুরায় নিজেদের বাড়ি থেকে নিখোঁজ ছিলেন বলে পরিবারের তরফে অভিযোগ রয়েছে।
পানিটাঙ্কি দার্জিলিং জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা। ভারত-নেপাল সীমান্তে এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় এই রুটে নজরদারি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রাথমিক কাউন্সেলিং ও পরিচয় যাচাইয়ের পর এসএসবি ছয়জনকে এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা দুই যুবককে কোশি লোক মঞ্চের হাতে তুলে দেয়। এরপর সংস্থাটির প্রতিনিধিরা খড়িবাড়ি থানায় গিয়ে পুরো বিষয়টি জানান এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ ও তদন্তের জন্য অভিযোগ করেন।
ঘটনাটি সামনে আসার পর সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে নারী ও কিশোরীদের পাচারের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ দুই যুবকের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে এবং উদ্ধার হওয়া ছয়জনকে কী উদ্দেশ্যে নেপালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।