বাংলাদেশের অস্থিরতা ও ভারত-বিরোধী উসকানির জেরে ত্রিপুরা-সহ উত্তর-পূর্ব সীমান্তে কড়া নিরাপত্তা

Story by  Nurul Haque | Posted by  Aparna Das • 1 Months ago
ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা সীমান্ত পরিদর্শন করেছেন
ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা সীমান্ত পরিদর্শন করেছেন
 
নূরুল হক

বাংলাদেশের চলমান অস্থিরতা এবং একাংশ মৌলবাদী নেতার ভারত বিরোধী বক্তব্য কেন্দ্র করে ত্রিপুরা সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের একাংশ সীমান্তবর্তী রাজ্যের বাড়ানো হলো অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা। বিএসএফের কড়া নজরদারির পাশাপাশি ত্রিপুরা সহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ভারত বাংলা সীমান্তের নিরাপত্তার খতিয়ে দেখছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।
 
ভারতীয় সেনাবাহিনীর উচ্চ পদস্থ একটি আধিকারিক দল শুক্রবার ভারত বাংলাদেশের সীমান্তের সংবেদনশীল এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন এবং নিরাপত্তা বিষয়ে বিএসএফ আধিকারিকদের সাথে পর্যালোচনা করেন। 
 
ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা সীমান্ত পরিদর্শন করেছেন
 
সেনাবাহিনীর ‌ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা শুক্রবার দুপুরে সেনাবাহিনীর বিশেষ হেলিকপ্টারে প্রথমে বেলোনিয়া বিদ্যাপীঠ ময়দানে পৌঁছান এবং পরে বেলোনিয়ার বিএসএফ ক্যাম্প ও সংলগ্ন সীমান্ত এলাকাগুলি পরিদর্শন করেন।
সেনাবাহিনীর আধিকারিক দলে উপস্থিত ছিলেন ইস্টার্ন কমান্ডের লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর. সি. তিওয়ারি, ইস্টার্ন কমান্ডের কর্পস কমান্ডার অভিজিৎ পেন্ধারকর, মেজর জেনারেল সুরেশ ভাম্ভু (আসাম রাইফেলসের ইন্সপেক্টর জেনারেল), ব্রিগেডিয়ার মানিশ রানা এবং গোকুলপুরনগর সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী  তথা বিএসএফ এর একাধিক আধিকারিক। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন নির্বাচন এবং সেখানকার কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার উসকানিমূলক বক্তব্যকে মাথায় রেখে ভারতের এটা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সুনিশ্চিত রাখতে এই সফর।
 
প্রতীকী ছবি
 
প্রসঙ্গত বাংলাদেশ অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে তাদের রাজনৈতিক নেতা ওসমান হাদি নিহত হন। সেই ঘটনার পর থেকে সে দেশের একাংশ অস্থিরতা শুরু করেছে এবং তারা অতিমাত্রায় ভারত-বিরোধী বক্তব্য এবং ভারতকে উদ্দেশ্য করে উস্কানি দিচ্ছে। বাংলাদেশি একাংশ নেতা ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলকে দখল নেওয়া সহ "চিকেন নেক" দখল করে ভারতকে দুর্বল করার হুমকি দিচ্ছে।
 
বাংলাদেশীদের এসব উস্কানি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ভারতের প্রতি বাংলাদেশের মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন  উঠতে শুরু করেছে। এই সমস্ত বিষয় নিয়ে দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যেও কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ যেভাবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে লক্ষ্য করে হুমকি দিচ্ছে এবং বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে সমর্থনের আশ্বাস দিচ্ছে তাতে করা নজর রাখছে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা সহ নিরাপত্তা বাহিনী।
 
প্রতীকী ছবি
 
যে কোন পরিস্থিতিতে দেশে না অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখতে সীমান্তে বিএসএফের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিএসএফের সাথে দুই স্তরীয় নিরাপত্তায় রয়েছেন ভারতীয় সেনাবাহিনী। সক্রিয় রয়েছে কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা। ভারতের জাতীয় সুরক্ষা নিশ্চিত রাখতে ত্রিপুরা সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের সীমান্তগুলিতে সেনাবাহিনীর নজরদারি আরে বাড়বে বলে খবর।
 
সূত্র আরও জানা গেছে চট্টগ্রামে কর্মরত ভারতের সহকারী হাইকমিশনারের অফিসে হামলার জেরে হাইকমিশনার যেকোন সময় ভারতে ফিরবেন। বেলোনিয়া ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্টের মাধ্যমে চট্টগ্রামে কর্মরত ভারতের সহকারী হাইকমিশনারের ভারতে ফেরার কথা রয়েছে। বিএসএফ এবং সেনাবাহিনী এক্ষেত্রে সুপ্রিয় রয়েছে।