বক্সনগরে পাচারকারীদের হামলায় রক্তাক্ত তিন বিএসএফ জওয়ান, সরকারি গাড়ি ভাঙচুর বন্দুক ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগ, রাতেই গ্রেফতার ৮ অভিযুক্ত

Story by  Nurul Haque | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 8 h ago
বক্সনগরে পাচারকারীদের হামলায় রক্তাক্ত তিন বিএসএফ জওয়ান
বক্সনগরে পাচারকারীদের হামলায় রক্তাক্ত তিন বিএসএফ জওয়ান

আগরতলা প্রতিনিধি,

ত্রিপুরা সীমান্তে চোরাচালান রুখতে গিয়ে পাচারকারীদের বর্বরোচিত হামলার শিকার হলেন তিন বিএসএফ জওয়ান। সোমবার সকালে সিপাহিজলা জেলার বক্সনগরের আশাবাড়ি এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হামলায় তিন জওয়ান রক্তাক্ত হন। শুধু তাই নয়, তাঁদের ব্যবহৃত  গাড়িটিও ভাঙচুর করা হয়। প্রকাশ্যে জওয়ানদের উপর হামলা, তাঁদের অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা এবং গোটা ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামনে আসায় সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। 

ঘটনার বিবরণে জানা যায় সোমবার সকাল প্রায় ৯টা নাগাদ। আশাবাড়ি বিওপি এলাকার কাঁটাতারের বেড়ার ১৭৪ ও ১৭৫ নম্বর গেটের মধ্যবর্তী অংশ দিয়ে অবৈধভাবে সামগ্রী পাচারের চেষ্টা চলছিল বলে বিএসএফ সূত্রে জানা যায়। সেই সময় ৪৯ নম্বর ব্যাটেলিয়ানের কর্তব্যরত জওয়ানরা পাচারকারীদের ধাওয়া করেন। ধাওয়া খেয়ে অভিযুক্তরা বিভিন্ন দিকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে হেফজুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেন জওয়ানরা। বিএসএফের দাবি, আটক ব্যক্তি পাচারচক্রের সঙ্গে যুক্ত। যদিও হেফজুর রহমান নিজেকে পাচারকার্যের সঙ্গে যুক্ত নন বলে দাবি করেন। এ সময় তাঁর পায়ে আঘাত লাগে এবং রক্তপাত হয় বলে জানা গেছে।

পরবর্তীতে আহত হেফজুর রহমানকে বক্সনগর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর আশাবাড়ি নতুন বাজার এলাকায় নিয়ে আসা হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই স্থানীয় কয়েকজনের নেতৃত্বে বিএসএফের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে একদল মানুষ একত্রিত হয়ে বক্সনগর-রহিমপুর সড়কে অবরোধ শুরু করে। অবরোধ চলাকালে রহিমপুর কাঁটামুড়া বিওপি থেকে আসা তিন বিএসএফ জওয়ানের গাড়ি অবরোধস্থলে পৌঁছায়।

অভিযোগ, গাড়িটি সেখানে পৌঁছাতেই একদল উত্তেজিত লোক জওয়ানদের উপর চড়াও হয়। হামলাকারীদের অধিকাংশ আন্তর্জাতিক পাচারকার্যের সঙ্গে যুক্ত বলে স্থানীয়দের দাবি। সেখানে বিএসএফ জওয়ানদের মারধর করে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়, তাঁদের মাথায় আঘাত করে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয় । যুবক ছেলেদের সঙ্গে কিছু পাচারকারী মহিলা সরাসরি বিএসএফ জওয়ানদের পিটিয়েছেন। হামলায় তিন জওয়ান আহত হন। তাঁদের সরকারি গাড়িটিও ব্যাপকভাবে ভাঙচুর করা হয়। 

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, উপস্থিত সংবাদকর্মীদের হস্তক্ষেপে হামলাকারীদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করে জওয়ানদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং আহত জওয়ানদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অন্যান্য বি এস এফ দেওয়ান এবং পুলিশ ছুটে যায়। হামলাকারীদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকও ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে আশাবাড়ি এলাকায় অবস্থান করে অবৈধ পাচারকার্যের সঙ্গে যুক্ত।

এদিকে খবর পেয়ে আশাবাড়ি বিওপি থেকে অতিরিক্ত বিএসএফ জওয়ানরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা বিভিন্ন দিকে পালিয়ে যায়। বিএসএফ এবং পুলিশ সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত করেছে। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ ও বিএসএফের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা বক্সনগরে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।
এই ঘটনায় পুলিশ মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে ১৯ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে রাতের মধ্যেই আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তদন্ত ও অভিযান চলছে।

সীমান্তে পাচার রুখতে গিয়ে কর্তব্যরত নিরাপত্তারক্ষীদের উপর এ ধরনের সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনায় বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সাংসদ বিপ্লব কুমার দেবসহ রাজ্যের বিভিন্ন মন্ত্রী, বিধায়ক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। সাধারণ মানুষের মধ্যেও ঘটনার বিরুদ্ধে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে।


অধিক পঢ়ক

শেহতীয়া খবৰ