নয়া দিল্লি/ঠাকুরনগর:
বিজেপি সরকার ক্ষমতায় না এলে পশ্চিমবঙ্গ ‘বৃহত্তর বাংলাদেশের’ অংশ হয়ে যেত! রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগরে মতুয়া সম্প্রদায়ের এক বিশাল সমাবেশে এমনই বিতর্কিত মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর আওতায় আবেদনকারীদের বড়সড় আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তাঁর ঘোষণা, চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে রাজ্যের প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার আবেদনকারীর নাগরিকত্বের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁদের হাতে নাগরিকত্বের শংসাপত্র তুলে দেওয়া হবে।
ঠাকুরনগরে মতুয়া সম্প্রদায়ের সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকার ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার বারবার CAA কার্যকর করার প্রক্রিয়ায় বাধা দিয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশে ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া বহু মতুয়া ও অন্যান্য তফসিলি জাতিভুক্ত মানুষের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়েছে।
শুভেন্দু বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি CAA চালু করে মতুয়া-সহ বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে ভারতে আসা মানুষদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন। তাঁর দাবি, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় না এলে বাংলার পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারত এবং রাজ্য বৃহত্তর বাংলাদেশের অংশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।
মুখ্যমন্ত্রীর আরও দাবি, পশ্চিমবঙ্গে এখনও পর্যন্ত CAA-র আওতায় মাত্র ২৫ হাজার মানুষ নাগরিকত্ব পেয়েছেন। প্রায় আড়াই লক্ষ আবেদনকারীর শুনানি দ্রুত শেষ করে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। আগের সরকারের আমলে নাগরিকত্বের প্রক্রিয়া যথাযথভাবে এগোয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মতুয়াদের উন্নয়নে একাধিক ঘোষণা
শুধু নাগরিকত্ব নয়, মতুয়া সম্প্রদায়ের উন্নয়ন নিয়েও একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর ঘোষণা, আগামী রাজ্য বাজেটে ঠাকুরনগরকে পুরসভায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন এবং অন্যান্য পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্যও তাঁর সরকার কাজ করবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
রাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মতুয়া ভোট
উল্লেখ্য, মতুয়া সম্প্রদায় অবিভক্ত বাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। হরিচাঁদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের নেতৃত্বে উনিশ শতকের শেষভাগ ও বিশ শতকের গোড়ায় এই আন্দোলনের প্রসার ঘটে। সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ নমঃশূদ্র জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত, যাঁরা পশ্চিমবঙ্গে তফসিলি জাতিভুক্ত।
উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া-সহ উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় মতুয়া সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যা রয়েছে। রাজ্যের প্রায় ৬০ থেকে ৮০টি বিধানসভা কেন্দ্রে তাঁদের ভোট রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
ফলে নাগরিকত্বের আশ্বাস এবং ঠাকুরনগরকে পুরসভায় উন্নীত করার প্রতিশ্রুতিকে মতুয়া সম্প্রদায়ের উন্নয়ন ও রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।