তারাতলার ভয়াবহ গুদামধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯-এ পৌঁছেছে। এখনও ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে এবং কয়েকজন নিখোঁজ শ্রমিকের খোঁজে উদ্ধারকারীরা তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন। সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, দমকল ও কলকাতা পুলিশের যৌথ অভিযানে গত ৪৮ ঘণ্টায় বহু শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিহতদের পরিবারের জন্য ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের জন্য ১ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর মোট ২৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং চিকিৎসাধীনদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।
ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে রাজ্য সরকার। গোয়েন্দা বিভাগের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে গঠিত এই দল নির্মাণ সংক্রান্ত নথি, অনুমোদন প্রক্রিয়া, ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রী এবং ঠিকাদারি সংস্থার ভূমিকা খতিয়ে দেখছে।
এদিকে, পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে গুদাম নির্মাণ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে নির্মাণে অনিয়ম ও নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ সামনে এসেছে।
উদ্ধারকার্য চলাকালীন একাধিক বিশেষজ্ঞ এবং দমকল সূত্রের দাবি, গুদামের ছাদ ঢালাইয়ের সময় কাঠামোগত দুর্বলতা ও সম্ভাব্য নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার এই বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হতে পারে। কিছু রিপোর্টে ‘ডিজাইন ফ্ল’ বা নকশাগত ত্রুটির সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, কলকাতা পুর এলাকার মধ্যে চলমান বহু বহুতল ও বাণিজ্যিক নির্মাণ প্রকল্পের নিরাপত্তা পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বেশ কিছু নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
তারাতলার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ফের প্রশ্ন তুলেছে নির্মাণক্ষেত্রে শ্রমিক নিরাপত্তা, তদারকি ব্যবস্থা এবং নির্মাণ অনুমোদনের স্বচ্ছতা নিয়ে। শ্রমিক সংগঠনগুলির দাবি, শুধু ক্ষতিপূরণ নয়, দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে।
শোকস্তব্ধ কলকাতা এখন অপেক্ষা করছে—এই বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ সামনে আসবে কি না এবং নিহত শ্রমিকদের পরিবার সত্যিই ন্যায়বিচার পাবে কি না।