দেশের মুসলিম সমাজের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রান্তিকীকরণ, গণহিংসা, মসজিদ-মাদ্রাসা ভাঙচুর, বুলডোজার অভিযান এবং অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) বাস্তবায়নের প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে বড় কর্মসূচির ঘোষণা করল অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড (এআইএমপিএলবি)। সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকের পর জানানো হয়েছে, শীঘ্রই দেশের মুসলিমদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একটি বিশদ নথি প্রকাশ করা হবে এবং জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকে দেশব্যাপী জনসংযোগ ও আন্দোলন শুরু করা হতে পারে।
বোর্ডের মুখপাত্র ড. এস কিউ আর ইলিয়াস জানান, বিজেপি-শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা, লিঞ্চিং, মসজিদ ও মাদ্রাসা ভাঙচুর, বন্দে মাতরম বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ এবং একাধিক রাজ্যে ইউসিসি চালুর প্রক্রিয়া নিয়ে বৈঠকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বোর্ডের দাবি, মুসলিমদের জীবন, সম্পত্তি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিগত আইন এবং সাংবিধানিক অধিকার ক্রমাগত আক্রমণের মুখে পড়ছে।
আন্দোলনকে সুসংগঠিত করতে একটি বিশেষ অ্যাকশন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি বিভিন্ন গণতান্ত্রিক, শান্তিপ্রিয় ও ন্যায়বিচারপন্থী সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশজুড়ে প্রচার ও জনমত গঠনের কাজ করবে। বোর্ডের মতে, এই আন্দোলন শুধুমাত্র মুসলিমদের জন্য নয়, বরং সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার প্রশ্নেও গুরুত্বপূর্ণ।
মধ্যপ্রদেশের কামাল মাওলা মসজিদ-বোজশালা সংক্রান্ত মামলার রায়কে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করার সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছে বোর্ড। আইনি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
এআইএমপিএলবি পুনরায় দাবি করেছে, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সংবিধানের বাধ্যতামূলক নির্দেশ নয়, বরং নীতিনির্দেশমূলক একটি বিষয়। বোর্ডের অভিযোগ, উত্তরাখণ্ড ও গুজরাটের পরে অসম, মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রেও ইউসিসি কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে। প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও তারা আগেই জানিয়েছিল।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বোর্ডের সভাপতি মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ রহমানি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা বৈঠকে অংশ নেন। বোর্ডের মতে, আগামী কয়েক মাসে মুসলিম সমাজের সাংবিধানিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার প্রশ্নে বৃহত্তর জনমত গড়ে তোলাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।