নয়াদিল্লি
অসমে চূড়ান্ত জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের জন্য আপিল প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার দাবিতে করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকার, আসাম সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব চেয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বেঞ্চে আরও ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলি। শুনানি শেষে আদালত কেন্দ্র, আসাম সরকার এবং এনআরসির রাজ্য সমন্বয়কারীর দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নোটিশ জারি করে জবাব দিতে নির্দেশ দেন।
আবেদনটি করেছে অসম স্টেট জামিয়াত উলামা। শুনানিতে আবেদনকারীর আইনজীবী আদালতকে জানান, চূড়ান্ত এনআরসি তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের জন্য আইনে আপিলের সুযোগ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। ফলে হাজারো মানুষ অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
আদালত বিষয়টি নিয়ে আগে থেকে বিচারাধীন একই ধরনের আরেকটি মামলার সঙ্গে নতুন আবেদনটি যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট প্রকাশিত আসামের চূড়ান্ত এনআরসিতে মোট ৩ কোটি ৩০ লাখ ২৭ হাজার ৬৬১ জন আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে ৩ কোটি ১১ লাখ ২১ হাজার ৪ জনের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ জনের নাম বাদ পড়ে, যার ফলে তাদের নাগরিকত্বের দাবি নিয়ে আইনি অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়।
আবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, চূড়ান্ত এনআরসিতে অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫-এর ধারা ১৪এ এবং নাগরিকত্ব বিধিমালা, ২০০৩ অনুযায়ী দ্রুত জাতীয় পরিচয়পত্র (ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড) প্রদান করা হোক।
মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। তবে সুপ্রিম কোর্টের নোটিশের পর কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থান স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন এনআরসি থেকে বাদ পড়া লাখো মানুষ।