সরকারের আশ্বাসে ২৬ দিনের অনশন ভাঙলেন সোনম ওয়াংচুক, আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা CJP-র
নয়াদিল্লি:
কেন্দ্র সরকারের আশ্বাসের পর ২৬ দিনের অনির্দিষ্টকালের অনশন ভাঙলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তবে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গুরুগ্রামের মেদান্তা হাসপাতালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন আশ্বাস দেন। এরপরই তিনি অনশন ভাঙার ঘোষণা করেন।
সামাজিক মাধ্যম এক্স (X)-এ ওয়াংচুক লেখেন, "কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা, ড. জিতেন্দ্র সিং এবং লেহ-লাদাখের অ্যাপেক্স বডির সিনিয়র নেতাদের উপস্থিতিতে অবশেষে ২৬ দিনের অনশন ভাঙলাম।"
ওয়াংচুকের অনশন প্রত্যাহারের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এক্স-এ শুভেচ্ছা জানিয়ে লেখেন, "আমি সোনমজিকে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে এসে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার অনুরোধ জানাই। সর্বশক্তিমানের কাছে তাঁর সুস্বাস্থ্য কামনা করি।"
মেদান্তা হাসপাতালে ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো এবং অন্যদের উপস্থিতিতে সরকারের আশ্বাসপত্র পড়ে শোনান কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা। তিনি জানান, দিল্লির যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী এবং ২০ জুলাই 'সংসদ চলো' কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে মামলা না করার বিষয়ে সরকার ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।
নাড্ডা আরও জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে সংসদে আলোচনার আশ্বাস সরকার আগেই দিয়েছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক NEET প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা পড়ুয়াদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টিও ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।ওয়াংচুক জানান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৬৫ জন সাংসদ ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেছেন বা চিঠি দিয়ে তাঁকে অনশন ভাঙার অনুরোধ জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, "দীর্ঘ আলোচনার পর এবং দেশে সম্ভাব্য হিংসা এড়ানোর স্বার্থে আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। খুব শিগগিরই একটি ভিডিওতে বিস্তারিত জানাব। তবে সবাইকে অনুরোধ, কোনও অবস্থাতেই যেন কোথাও হিংসা না ছড়ায়।"অন্যদিকে, ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) শুক্রবার জানিয়েছে, ওয়াংচুকের অনশন ভাঙায় তারা স্বস্তি পেলেও তাদের আন্দোলন বন্ধ হচ্ছে না।
দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এক্স-এ লেখেন, "২৬ দিনের অনশন শেষে সোনম স্যার অনশন ভাঙায় আমরা স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতা অনুভব করছি। নিজের জীবন বাজি রেখে তিনি গোটা দেশের বিবেককে জাগিয়ে তুলেছেন।"তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, "ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত যন্তর মন্তরে CJP-র শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে।"
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পাশাপাশি CJP-র দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে— প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের পূর্ণ জবাবদিহি, শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, NEET প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা ছাত্রছাত্রীদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত মামলা প্রত্যাহার।
উল্লেখ্য, গত ২৮ জুন যন্তর মন্তরে CJP-র আন্দোলনে যোগ দিয়ে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। টানা ২৬ দিনের অনশনে তাঁর প্রায় ১১ কেজি ওজন কমে যায়।২০ জুলাইয়ের 'সংসদ চলো' কর্মসূচিতে পুলিশের কড়া পদক্ষেপের মধ্যেও তিনি আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণ থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
১৮ জুলাই দিল্লি পুলিশ তাঁকে চিকিৎসার প্রয়োজনের কথা জানিয়ে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করায়। পরে তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো দিল্লি হাই কোর্টে আবেদন করেন। আদালতের নির্দেশে ওয়াংচুককে গুরুগ্রামের মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে তিনি অনশন চালিয়ে যান।
মেদান্তা হাসপাতালে থাকাকালীন ওয়াংচুক বলেছিলেন, তিনি শিক্ষক হিসেবে তাঁর ছাত্রছাত্রীদের কাছে ফিরতে চান। তবে আন্দোলনকারী তরুণদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন ভাঙতে চান না।