নয়াদিল্লি
দেশ গঠনে তরুণদের ভূমিকার উপর জোর দিয়ে বৃহস্পতিবার ‘সেবা সংকল্প যাত্রা’র অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গুজরাটের ভাদনগর থেকে উত্তরপ্রদেশের বারাণসী পর্যন্ত চলা এই যাত্রাকে তিনি তৃণমূল স্তরে জনসম্পৃক্ততা ও রাষ্ট্রগঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
‘সেবা সংকল্প যাত্রা’র অংশ হিসেবে ১০টি দলে ভাগ হয়ে বাইকযাত্রায় অংশ নিয়েছেন তরুণরা। ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত ভাদনগর ও বারাণসীর মধ্যে যাতায়াত করছে দলগুলি। যাত্রাপথে বিভিন্ন শহর, জেলা, তালুক ও গ্রামের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি নানা সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন তাঁরা।
অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের সাংগঠনিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। আবহাওয়ার পরিবর্তন, স্থান বদল এবং নানা ধরনের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে দীর্ঘ যাত্রা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি তাঁদের প্রশংসা করেন। মোদি বলেন, দেশজুড়ে এই ধরনের যাত্রা তরুণ প্রজন্মকে ভারতের বৈচিত্র্যকে কাছ থেকে জানার সুযোগ করে দেয়।
মোদি বলেন, রাজনীতি, নির্বাচন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা তাদের নিজস্ব জায়গায় রয়েছে। কিন্তু ‘সেবা’র মনোভাব নিয়ে দেশ গঠনের কাজে এগিয়ে আসাও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কথায়, মানুষের সেবার মানসিকতা থেকেই দরিদ্রদের বিনামূল্যে খাদ্যশস্য দেওয়া এবং আয়ুষ্মান যোজনার মতো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের জন্ম হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যে যুবশক্তির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল, সামাজিক শ্রেণি ও সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে তাঁদের স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও মতামত বোঝা প্রয়োজন। তাঁর মতে, এই অভিজ্ঞতা তরুণদের ভবিষ্যৎ দায়িত্ব পালনে সহায়তা করবে এবং ‘সেবা সংকল্প যাত্রা’ সেই সুযোগ তৈরি করছে।
যাত্রাটির সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। ভাদনগরকে নিজের জন্মস্থান এবং বারাণসীকে কর্মভূমি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাশী বাবা বিশ্বনাথের আশীর্বাদধন্য, অন্যদিকে ভাদনগর হাটকেশ্বর মহাদেবের আশীর্বাদপুষ্ট ভূমি। এই দুই ঐতিহাসিক শহরকে যুক্ত করে তরুণদের সেবামূলক উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান।
যাত্রাপথে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথাও উল্লেখ করেন মোদি। গ্রামসভায় আলোচনা, উপভোক্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ, বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং সামাজিক মাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মতো কর্মসূচি চালানো হচ্ছে।
‘সেবা সংকল্প যাত্রা’র অংশগ্রহণকারীরা শুধু বিভিন্ন এলাকার মধ্য দিয়ে যাত্রা করছেন না, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে প্রয়োজন অনুযায়ী সেবামূলক কাজও করছেন। পুকুর, মন্দির, স্কুল, পার্ক ও হাসপাতাল-সহ বিভিন্ন জনসাধারণের ব্যবহারের জায়গায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান, যুবসমাজের সঙ্গে সংলাপ, গ্রামসভায় মতবিনিময় এবং গৌসেবার মতো কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ‘এক পেড় মা কে নাম’ কর্মসূচির আওতায় বৃক্ষরোপণও করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের আশীর্বাদ তাঁর জীবনে সবসময় শক্তির অন্যতম উৎস। তরুণদের এই উদ্যোগের বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও তিনি সামাজিক মাধ্যমে দেখেন বলেও জানান। ‘সেবা সংকল্প যাত্রা’য় অংশ নেওয়া তরুণদের, বিশেষ করে তরুণীদেরও তিনি অভিনন্দন জানান।