নয়া দিল্লি
গ্রেটার নয়ডায় যমুনা এক্সপ্রেসওয়ের উপর চলন্ত এসি বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আগুন লাগার সময় বাসে থাকা অধিকাংশ যাত্রী ঘুমিয়ে থাকায় মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
বুধবার রাতে প্রায় ৩৫ জন যাত্রীকে নিয়ে নয়ডা থেকে মাহোবার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল বাসটি। রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ জেওয়ারের কাছে দয়ানতপুর গ্রামের এলাকায় যমুনা এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকাই বাসটিতে আগুন লাগে। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন গোটা বাসে ছড়িয়ে পড়ে।
বাসটি এসি হওয়ায় অধিকাংশ জানালা বন্ধ ছিল। ফলে ধোঁয়ায় দ্রুত ভরে যায় বাসের ভিতর। ঘুমন্ত যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং প্রাণ বাঁচাতে হুড়োহুড়ি শুরু করেন। অনেকেই কাচের জানালা ভেঙে বাস থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। কোনওক্রমে বহু যাত্রী প্রাণে বেঁচে গেলেও বেশ কয়েকজন আগুনে ঝলসে যান।
এক প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রী জানান, তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। অন্য এক যাত্রী তাঁকে ডেকে বাসে আগুন লাগার কথা জানান। চোখ খুলে চারদিকে ধোঁয়া দেখতে পান তিনি। এরপর প্রবল আতঙ্কের মধ্যে কোনওক্রমে বাস থেকে বেরিয়ে আসেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও দমকল বাহিনী। বেশ কিছু সময়ের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। উদ্ধারকাজে নেমে বাসের ভিতর থেকে এখনও পর্যন্ত ৯টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে বাসটিতে ৪০-৫০ জন যাত্রী থাকার কথা জানা গেলেও সঠিক যাত্রীসংখ্যা এখনও নিশ্চিত নয়। আরও কেউ আগুনে আটকে পড়েছিলেন বা দগ্ধ হয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। দুর্ঘটনার পর বাসটিকে এক্সপ্রেসওয়ের ধারে সরিয়ে রাখা হয়েছে।
কী কারণে চলন্ত বাসটিতে আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। উদ্ধারকাজ ও তল্লাশি এখনও চলছে।
এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি আহতদের দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন।