শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ
ভারতের নির্বাচন কমিশন আজ বিকেল ৪টায় সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে পাঁচটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা করতে চলেছে। এই তালিকায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ কেরালা তামিলনাড়ু আসাম ও পন্ডিচেরি। এই রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভার মেয়াদ আগামী মে ও জুন মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। ফলে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এপ্রিল-মে মাসের মধ্যেই ভোটগ্রহণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে এবং বিভিন্ন দল নিজেদের কৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত।
ভোটের সূচি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি পরপর দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন। প্রথমে তিনি রাজ্যের পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের মাসিক ভাতা ৫০০ টাকা বাড়ানোর কথা জানান। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, রাজ্য সরকার এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে চায় যেখানে প্রতিটি সম্প্রদায় ও তাদের ধর্মীয় ঐতিহ্য সমান মর্যাদা পায় এবং যারা এই ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক তাদের প্রাপ্য সম্মান ও সহায়তা দেওয়া হয়।
এর পাশাপাশি রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নিয়েও বড় ঘোষণা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সালের রোপা অনুযায়ী যে ডিএ বকেয়া ছিল, তা মার্চ ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে প্রদান করা হবে। এই সুবিধা রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকা, অশিক্ষক কর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং বিভিন্ন অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরাও পাবেন।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রধান রাজনৈতিক লড়াই হতে চলেছে ক্ষমতাসীন অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী ভারতীয় জনতা পার্টির মধ্যে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যার বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুর। অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য রাজনীতিতে মুখ্য নেতৃত্বে রয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, যার বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রাম। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ৪৮.০২ শতাংশ ভোট পেয়ে ২১৫টি আসনে জয়লাভ করেছিল এবং বর্তমানে তাদের বিধায়ক সংখ্যা বেড়ে ২২৩ হয়েছে। বিজেপি তখন ৩৮.১৫ শতাংশ ভোট পেয়ে ৭৭টি আসন জিতেছিল, যদিও বর্তমানে তাদের বিধায়ক সংখ্যা ৬৫। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় মোট ২৯৪টি আসন রয়েছে এবং সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন কমপক্ষে ১৪৮টি আসন।
এই নির্বাচনে লেফট ফ্রন্টও সক্রিয়ভাবে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। জোটে রয়েছে কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া মার্ক্সবাদী, কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া, অল ইন্ডিয়া ফরওয়ার্ড ব্লক এবং রেভলিউশনারি সোশ্যালিস্ট পার্টি। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও কয়েকটি সহযোগী সংগঠন ও দল। পাশাপাশি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট, ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস, অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন, বহুজান সমাজ পার্টি সহ একাধিক দল।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৭ কোটি ৪৫ লক্ষ, যা আগের তুলনায় প্রায় ৪.০৩ শতাংশ কম। সব মিলিয়ে নির্বাচন ঘোষণার অপেক্ষায় এখন রাজনৈতিক দলগুলি। কমিশন সূচি ঘোষণা করার পরই শুরু হবে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার এবং রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।