ব্রিগেডের মঞ্চে ‘বাঙালিয়ানা’র ছোঁয়া, মোদীর সভা ঘিরে রাজনৈতিক বার্তার লড়াই

Story by  Debkishor Chakraborty | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 3 h ago
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি

দেবকিশোর চক্রবর্তী

ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগে শক্তি প্রদর্শনে কার্যত মহাযজ্ঞের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজেপি। শনিবার কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড-এ সভা করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজ্য রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে এটিই হতে পারে বিজেপির শেষ বড় সমাবেশ। ফলে আয়োজনের কোনও খামতি রাখতে চাইছে না রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব।

তবে শুধু জনসমাগম বা রাজনৈতিক ভাষণের দিকেই নজর নয়, এবারের ব্রিগেড সভায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মঞ্চসজ্জায়। বিজেপির প্রস্তুতিতে উঠে এসেছে বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একাধিক প্রতীক। কোচবিহারের রাজবাড়ির আদলে নকশা, বাঁকুড়ার বিখ্যাত টেরাকোটার ঘোড়া, উত্তরবঙ্গের জঙ্গলাঞ্চলের প্রতীকী উপস্থাপনা—সব মিলিয়ে মঞ্চে ফুটে উঠছে এক ধরনের ‘বাঙালিয়ানা’।

বিশেষভাবে নজর কেড়েছে মঞ্চের ব্যাকড্রপে রাখা দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরের কাটআউট। বাংলার অন্যতম ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতীক হিসেবে এই মন্দিরকে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে বিজেপি যেন সরাসরি বাঙালি আবেগের সঙ্গেই নিজেদের যুক্ত করতে চাইছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মঞ্চসজ্জা নিছক সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য নয়; এর মধ্যেই রয়েছে স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। দীর্ঘদিন ধরে শাসক দল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ করে আসছে যে ভারতীয় জনতা পার্টি বাংলা ও বাঙালির সংস্কৃতির প্রতি উদাসীন এবং ‘বাংলা বিরোধী’ মনোভাব পোষণ করে। সেই অভিযোগের জবাব দিতেই এবার বিজেপি তাদের সভার মঞ্চে বাংলার ঐতিহ্যকে সামনে আনছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
 
 
তৃণমূলের তরফে বারবার দাবি করা হয়েছে, বিজেপি বাংলার ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে যথাযথ গুরুত্ব দেয় না। এমনকি রাজনৈতিক প্রচারেও সেই অভিযোগকে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু ব্রিগেডের মঞ্চে বাংলার ঐতিহ্যবাহী প্রতীকগুলির ব্যবহার দেখে অনেকেই মনে করছেন, ভোটের আগে সেই ধারণা ভাঙার চেষ্টা করছে বিজেপি।
 
 
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পরিকল্পনার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে একটি কৌশলগত বার্তা। বাংলার সাংস্কৃতিক পরিচয়কে সামনে রেখে বিজেপি দেখাতে চাইছে যে তারা কেবল বাইরের শক্তি নয়, বরং বাংলার ঐতিহ্য ও আবেগকেও সম্মান করে। আর সেই বার্তাই দিতে চাইছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী—‘আমি তোমাদেরই লোক’।
 
 
অন্যদিকে, ব্রিগেডের সভাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপও বাড়ছে রাজ্যে। শাসক-বিরোধী দুই শিবিরই নিজেদের অবস্থান জোরালো করতে চাইছে নির্বাচনের আগে। বিজেপির লক্ষ্য, এই সভার মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল জনসমাগম ঘটিয়ে সংগঠনের শক্তি প্রদর্শন করা।
 
 
সব মিলিয়ে, ব্রিগেডের মঞ্চে ‘বাঙালিয়ানা’র ছোঁয়া শুধু নান্দনিকতার বিষয় নয়; বরং তা রাজ্যের নির্বাচনী রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে উঠতে চলেছে। এখন দেখার, এই সাংস্কৃতিক বার্তা ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।