গবেষক ড. আবিদা চৌধুরী দক্ষিণ মেরু আন্টার্কটিকা অভিযানের জন্য নির্বাচিত

Story by  Satananda Bhattacharjee | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 14 h ago
গবেষক ড. আবিদা চৌধুরী
গবেষক ড. আবিদা চৌধুরী
শতানন্দ ভট্টাচার্য 

দক্ষিণ অসমের বরাক উপত্যকার কাছাড় জেলার শিলচরের অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগের প্রাক্তন গবেষক ড. আবিদা চৌধুরী দক্ষিণ মেরু – আন্টার্কটিকা অভিযানে যাওয়ার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। এই খবর চাউর হতেই খুশির জোয়ার উঠেছে তাঁর পরিচিত ও শিক্ষকমহলে। গবেষণা ও অভিযাত্রার এক অনন্য সংযোগে তাঁর এই সাফল্য শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের জন্যও এক অসাধারণ গর্বের মুহূর্ত বলে অনেকেই মনে করছেন। 

অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রাজীব মোহন পন্থ তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “এটি আসাম বিশ্ববিদ্যালয় ও উত্তর-পূর্ব ভারতের জন্য এক অসাধারণ গর্বের মুহূর্ত। আবিদা-র সাফল্য প্রমাণ করে আমাদের গবেষকরা আজ বিশ্ব বৈজ্ঞানিক মঞ্চে স্বীকৃতি পাচ্ছেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তিনি হবেন অনুপ্রেরণা। তাঁর এই সাফল্য উত্তর-পূর্ব ভারতের তরুণ বিজ্ঞানীদের বিশ্বমানের বৈজ্ঞানিক উদ্যোগে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণের এক মাইলফলক।”

আবিদা-র শিক্ষক হিসেবে ডঃ হিমাদ্রী শেখর দাস বলেন, "আমি বিভাগের হেড হিসেবে খুব গর্বিত। আমাদের বিভাগ থেকে এম এস সি আর পি এইচ ডি করেছে। এটমস্পিয়ারিক ফিজিক্সের উপর গবেষণা করেছে যেটা হচ্ছে জলবায়ু নিয়ে গবেষণা। ও সত্যিই আমাদের সকলের মুখ উজ্জ্বল করেছে"।
 

ড. আবিদা চৌধুরী
 
উল্লেখ্য, ড. চৌধুরী অসম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক অত্রি দেশমুখ্যের তত্ত্বাবধানে পদার্থবিদ্যায় পিএইচডি সম্পন্ন করেন। দীর্ঘ গবেষণার অভিজ্ঞতা তাঁকে এখন বিশ্বমানের বৈজ্ঞানিক অভিযানে পৌঁছে দিয়েছে, যেখানে তিনি পৃথিবীর সবচেয়ে প্রতিকূল আবহাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় অবদান রাখবেন।

অভিযানের আগে তিনি কঠোর অভিযোজন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন উত্তরাখণ্ডের আউলিতে অবস্থিত ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ আই টি বি পি -এর পর্বতারোহণ ও স্কিইং স্কুলে। ২০২৫ সালের ১১ থেকে ২২ আগস্ট চলা এই প্রশিক্ষণ তাঁকে শূন্যের নিচে নেমে যাওয়া তাপমাত্রা, প্রবল ঝড়ো হাওয়া ও দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতার মতো কঠিন পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতা দিয়েছে।

ডঃ চৌধুরীর মতে এধরনের কর্যসূচিতে যোগদান করা সৌভাগ্যের ব্যাপার। তিনি বলেন প্রতিদিন মানুষ বিভিন্ন ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাই এব্যাপারে বিশেষ গবেষণা প্রয়োজন। প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে  মানুষকে আরো সচেতন হতে হবে।

ড. চৌধুরীর অন্তর্ভুক্তি ভারতের মেরু গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করা হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত ব্যবস্থার বৈশ্বিক প্রভাব বোঝার ক্ষেত্রে তাঁর গবেষণা বিশেষ তাৎপর্য বহন করবে।