আকর্ষণীয় ঘটনা
রাজনৈতিক দলগুলোর তরফ থেকে আরএসএস-এর প্রতি বিরোধিতা প্রসঙ্গে ভাগবত স্মরণ করেন, "শুরুর দিকে জয়প্রকাশ নারায়ণ আরএসএস-এর বিরোধী ছিলেন, কিন্তু পরে তিনি আমাদের কাছাকাছি এসেছিলেন। যারা আমাদের সহযোগিতা চান ভালো কাজের জন্য, তারা তা পান; আর যারা দূরে থাকেন, তারা পান না। আমরা কী-ই বা করতে পারি?"
তিনি নাগপুরের একটি ঘটনার কথাও শোনান, যেখানে এনএসইউআই-এর সম্মেলনে ৩০,০০০ অংশগ্রহণকারী ছিল, কিন্তু খাবারের কোনো ব্যবস্থা ছিল না।
ভাগবত বলেন, "থালা-বাসন ছোঁড়াছুঁড়ি হলো, বাজারে হট্টগোল ও মারপিট শুরু হলো। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় কংগ্রেস সাংসদের কাছ থেকে ফোন এলো, আর আমরা মেস ব্যবস্থাপনা হাতে নিয়ে সমস্যার সমাধান করি। তখন আমি নাগপুরে আরএসএস প্রচারক ছিলাম।"
আলোচনার সময় তিনি প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের কথাও উল্লেখ করেন।
ভাগবত বলেন, "তিনিও আরএসএস-এর মঞ্চে এসেছিলেন। তাঁর যেসব ভুল ধারণা ছিল, তা দূর হয়ে গিয়েছিল। যে কারও মন পরিবর্তন হতে পারে। রূপান্তরের সম্ভাবনাকে কখনোই খারিজ করা উচিত নয়। নেতৃত্ব সবসময় স্বচ্ছ এবং পরিষ্কার হওয়া উচিত। মানুষের বিশ্বাস থাকা উচিত যে আমাদের নেতৃত্ব স্বচ্ছ এবং নির্মল।"
সংরক্ষণ
মোহন ভাগবত বলেছেন যে সংঘ বরাবরই সংরক্ষণের পক্ষে থেকেছে এবং এটি সমর্থন করবে যতদিন না উপকারভোগীরা মনে করেন যে আর আর প্রয়োজন নেই এবং তারা স্বনির্ভর হতে পেরেছেন।
আরএসএস প্রধান বলেন, "সংবিধান অনুযায়ী যে সংরক্ষণ দেওয়া হয়েছে, সংঘ ইতিমধ্যেই সেটিকে সমর্থন করে। এটি সবসময় থাকবে। আর যতদিন পর্যন্ত সংরক্ষণের উপকারভোগীরা মনে না করেন যে এর আর প্রয়োজন নেই, বৈষম্য শেষ হয়েছে এবং তারা নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে সক্ষম, ততদিন আমরা একে সমর্থন করব।"
তিনি জানান, বলাসাহেব দিওরাস আরএসএস প্রধান থাকাকালে সংঘ সংরক্ষণের পক্ষে একটি প্রস্তাব পাশ করেছিল।
ভাগবত বলেন, "যখন প্রস্তাব আনা হয়েছিল, তখন এ নিয়ে একেবারে ভিন্ন বিরোধী মতামত ছিল। আমাদের তৎকালীন সরসঙ্ঘচালক (আরএসএস প্রধান) বলাসাহেবজি পুরো অধিবেশনের আলোচনাটি মন দিয়ে শুনেছিলেন এবং শেষে বলেছিলেন—'ভাবুন তো, যদি আপনি সেই পরিবারে জন্মাতেন যাদেরকে হাজার বছর ধরে জাতিভিত্তিক বৈষম্যের দংশন সহ্য করতে হয়েছে, তাহলে পরের অধিবেশনে এসে মতামত দিন।'"
তিনি জানান, পরবর্তী অধিবেশনে সংরক্ষণের পক্ষে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছিল।
ভাগবত বলেন, আরএসএস স্বয়ংসেবকরা সমাজের বঞ্চিত শ্রেণির মানুষের ওপর সংঘটিত অত্যাচারের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকে।
তিনি বলেন, "যেখানে যেখানে এমন ঘটনা ঘটে, স্বয়ংসেবকদের সেখানে যেতে হবে। তাদের সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে হবে, ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং এ-ও খেয়াল রাখতে হবে যাতে এমন ঘটনায় সমাজে লড়াই-ঝগড়া না হয়। স্বেচ্ছাসেবকদের কাছ থেকে এই প্রত্যাশাই করা হয়।"
কেন সংঘকে এমন অত্যাচারের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে দেখা যায় না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "যদি কোনো কারণে এটি না হয়, তবে সেটি আমাদের দোষ। স্থানীয় সংঘ কর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করুন। এর সমাধান করা হবে।"