রথীন্দ্রনাথ বোস স্পিকার, স্বচ্ছতার বার্তায় লাইভ টেলিকাস্টের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
কলকাতা
অষ্টাদশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার পদে কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই নির্বাচিত হলেন শাসকদলের প্রার্থী রথীন্দ্রনাথ বোস। বিরোধী শিবির আলাদা কোনও প্রার্থী না দেওয়ায় ধ্বনিভোটেই তাঁর নির্বাচনে সিলমোহর পড়ে। তবে স্পিকার নির্বাচনকে ঘিরে শুক্রবার বিধানসভায় সবচেয়ে বেশি চর্চায় উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বড় ঘোষণা, এবার থেকে বিধানসভার গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
শুক্রবার বিধানসভায় রথীন্দ্রনাথ বোসের নাম স্পিকার পদে প্রস্তাব করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই প্রস্তাবে সমর্থন জানান মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল-সহ বিজেপি বিধায়করা। বিরোধীদের তরফে কোনও প্রার্থী না থাকায় প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় ধ্বনিভোটে রথীন্দ্রনাথ বোসকে স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন। পরে তাঁকে স্পিকারের আসনে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়।
বিধানসভার দীর্ঘদিনের রীতি মেনে বিরোধীরা প্রার্থী না দেওয়ায় তাঁদের ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী। এরপরই তিনি জানান, বাজেট অধিবেশন-সহ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ নিজেদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কার্যকলাপ নিজের চোখে দেখতে পারেন।
স্পিকারকে অভিনন্দন জানাতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সরকার চায় বিধানসভা হোক সুস্থ গণতান্ত্রিক আলোচনার জায়গা। অকারণে হট্টগোল বা বিশৃঙ্খলার কারণে অধিবেশনের কাজ ব্যাহত হোক, তা কাম্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেন, কোনও বিরোধী বিধায়ককে দীর্ঘদিন সাসপেন্ড থাকতে বা আহত অবস্থায় বিধানসভা ছাড়তে হোক, সরকার তা চায় না।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে আগের বিধানসভার বিভিন্ন বিতর্কিত ঘটনার প্রসঙ্গই তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘ সাসপেনশন এবং বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের আহত হওয়ার ঘটনাও তাঁর বক্তব্যে পরোক্ষে উঠে আসে।
এদিন আরও এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিজেপি গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী। সংখ্যায় কম হলেও বিরোধীরা যাতে নিজেদের বক্তব্য রাখার যথেষ্ট সুযোগ পান, সেই বিষয়েও সরকার ইতিবাচক থাকবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।