নয়া দিল্লি
প্রতি লিটারে ৩ টাকা করে বেড়েছে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে তেল কোম্পানিগুলি লোকসানের মুখে পড়েছে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে তার চাপ আংশিকভাবে গ্রাহকদের ওপরও চাপাতে বাধ্য হয়েছে তেল কোম্পানিগুলি।
প্রথম পর্যায়ে দেশের চারটি মেট্রো শহরে এই মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর করা হয়েছে। পেট্রোল-ডিজেলের খুচরা বিক্রির নতুন দাম ১৫ মে থেকে কার্যকর হবে। এই চারটি মেট্রো শহর হলো মুম্বাই, দিল্লি, কলকাতা এবং চেন্নাই।
কেন্দ্র সরকার বারবার জানিয়েছে যে, ইরান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীর সংকটের ফলে বিশ্ব জ্বালানি পরিবহণে সমস্যা সৃষ্টি হলেও দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই এবং পেট্রোল, ডিজেল বা এলপিজির রেশনিং চালুরও কোনো পরিকল্পনা নেই।
সম্প্রতি সিআইআই-এর বার্ষিক ব্যবসায়িক সম্মেলনে তেল সচিব নীরজ মিত্তল বলেন, “আতঙ্কিত হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। পর্যাপ্ত জোগান রয়েছে। রেশনিং চালুর কোনো পরিকল্পনা নেই। এমন কিছু করা হবে না।” কর্মকর্তারা জানান, বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা চললেও ভারত বর্তমানে প্রায় ৬০ দিনের জ্বালানি এবং প্রায় ৪৫ দিনের এলপিজি মজুত করে রেখেছে।
সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের রাজধানী দিল্লিতে এখন প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম হবে ৯৭.৭৭ টাকা। আগে যেখানে দাম ছিল ৯৪.৭৭ টাকা, সেখানে ৩ টাকা বেড়েছে। অন্যদিকে ডিজেলের দাম ৮৭.৬৭ টাকা থেকে বেড়ে ৯০.৬৭ টাকা হয়েছে। শুক্রবার থেকে এই সংশোধিত দাম কার্যকর হয়েছে।
এই বৃদ্ধির ফলে একাধিক শহরে জ্বালানির দাম প্রতি লিটারে ১০০ টাকার উপরে পৌঁছে গেছে। কলকাতায় পেট্রোলের দাম ৩.২৯ টাকা বেড়ে এখন প্রতি লিটারে ১০৮.৭৪ টাকা হয়েছে। অন্যদিকে ডিজেলের দাম ৩.১১ টাকা বেড়ে প্রতি লিটারে ৯৫.১৩ টাকা হয়েছে।
মুম্বাইয়ে পেট্রোলের দাম ৩.১৪ টাকা বেড়ে ১০৬.৬৮ টাকা হয়েছে, আর ডিজেলের দাম ৩.১১ টাকা বেড়ে প্রতি লিটারে ৯৩.১৪ টাকা হয়েছে। চেন্নাইতেও পেট্রোলের দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। সেখানে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ২.৮৩ টাকা বেড়ে ১০৩.৬৭ টাকা হয়েছে এবং ডিজেলের দাম ২.৮৬ টাকা বেড়ে প্রতি লিটারে ৯৫.২৫ টাকা হয়েছে।
এতদিন পর্যন্ত ভারত পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি থেকে কিছুটা রক্ষা পেয়েছিল। সরকার পরিচালিত তেল বিপণন সংস্থাগুলি (OMC), কর সমন্বয় এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চাপ কমানোর চেষ্টা করছিল। তবে সাম্প্রতিক সরকারি প্রতিবেদনের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং পাম্পের দাম অপরিবর্তিত রাখার কারণে তেল বিপণন সংস্থাগুলির দৈনিক লোকসান ১০০০ কোটি থেকে ১২০০ কোটি টাকার মধ্যে পৌঁছেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে এই বকেয়া ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছাবে। ভারত তার মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি করে।