নব্বইয়ের দশকের বাংলার সাঁতারের উজ্জ্বল নক্ষত্র আকবর আলী মীর এখন খেলোয়াড় তৈরির কাজ করছেন
শান্তিপ্রিয় রায় চৌধুরী
নব্বইয়ের দশকের বাংলার সাঁতারের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র দক্ষিণ ২৪ পরগনার তালদির ছেলে আকবর আলী মীর। বাংলার হয়ে সাঁতার কেটেছেন কুড়িটা বছর। এই সময়ের মধ্যে তিনি রাজ্য ও জাতীয় পর্যায়ে পেয়েছেন শুধুই সাফল্য। জুনিয়র ন্যাশনাল, সিনিয়র ন্যাশনালে রেকর্ডসহ পেয়েছেন প্রচুর সোনা, রুপো ও ব্রোঞ্জের পদক। যার মধ্যে ২০০০ সালে সিনিয়র ন্যাশনাল থেকে তার পাওয়া ৭টি সোনার পদক আজও তার ক্যারিয়ারে জ্বল জ্বল করছে। সর্বভারতীয় রেলের হয়ে তিনি ৮ বারের ব্যক্তিগত চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ২০০০-২০০৭। ১৯৯৯ থেকে ২০০৮ ইস্টার্ন রেল ও সিনিয়র ন্যাশনালে অংশ নিয়ে অনেক পদক জয় করেছেন।
শুধু দেশের মাটিতে নয়, সাফল্যে রয়েছে দেশের মাটিতেও। ১৯৯৯ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে অনেক আন্তজাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছেন আকবর আলী মীর। যেমন ২০০০ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় এশিয়ান গেমসে ১০০ মিটার ব্যাকট্রোকে নবম স্থান পেয়েছিলেন।
২০০৪ সালে পাকিস্তানের সাফ গেমসে তিনি তিনটি সোনা পেয়েছিলেন। ২০০১ সালের জুনিয়র এশিয়ান সাতার চ্যাম্পিয়নশিপে একটি সোনা পেয়েছিলেন। ২০০২ সালে চীনে অনুষ্ঠিত জুনিয়র সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপে একটি সোনার পদক পেয়েছিলেন। এছাড়া ২০০৩ সালে হায়দ্রাবাদে অনুষ্ঠিত আফ্রো এশিয়ান গেমসে দুটি ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছিলেন। ২০০৭ সালে বাংলাদেশে ইন্দো-বাংলা গেমসে পাঁচটি সোনার পদক জিতেছিলেন। কলকাতায় ২০০৮ সালে এই ইন্দো-বাংলা গেমসেও তিনি পাঁচটি সোনার পদক জিতে ছিলেন।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সাঁতারে বহু সাফল্যের অধিকারী আকবর আলী মীর ১৯৯৯ সালে পূর্ব রেলওয়েতে চাকরি জীবন শুরু করেন। তারপর থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত রেলের হয়ে প্রতিটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। ২০১৬ সালে থেকে তিনি ইস্টার্ন রেলওয়ের সিনিয়র সাঁতারুদের কোচ হন। এরপর তিনি ২০২৩ সাল থেকে পূর্ব রেলের বেহালার সুইমিং একাডেমিতে কোচিং এর কাজ শুরু করেন। তার হাতে এখন বাংলার বহু জুনিয়র ছেলে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে এই একাডেমিতে।
বেহালার পূর্ব রেলের কোচিং একাডেমিতে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন আকবর আলী মীর
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "চাকরি জীবনের অবসরের পর আমার ইচ্ছে বাংলার ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের জন্য একটা সুইমিং কোচিং সেন্টার খোলা। যেখানে আমি কোচিং করে বাংলা সাঁতার কে উপকৃত করার চেষ্টা করব। এটাই আমার মূল লক্ষ্য।"