হাইকোর্টে গর্জে উঠলেন মমতা — বাংলার মাটি ছাড়েননি, লড়াইও ছাড়বেন না বাংলার অগ্নিকন্যা
দেবকিশোর চক্রবর্তী
ভোট-পরবর্তী হিংসা, ভয় এবং প্রশাসনিক সন্ত্রাসের অভিযোগে উত্তাল বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতির মাঝেই আজ ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক নেতৃত্বের আসন থেকে নেমে সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টে উপস্থিত হয়ে তিনি যেন স্পষ্ট বার্তা দিলেন — বাংলার মানুষের লড়াইয়ে তিনি এখনও সামনের সারিতেই আছেন।
সাম্প্রতিক নির্বাচনী ধাক্কার পর যখন রাজনৈতিক মহলের একাংশ তৃণমূল কংগ্রেসকে ঘিরে নানা জল্পনা তৈরি করতে ব্যস্ত, যখন দলের কিছু নেতা নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বাঁচাতে শিবির বদলের তদবিরে সক্রিয়, ঠিক সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও ফিরলেন তাঁর চেনা সংগ্রামী ভূমিকায়। আদালত চত্বরে তাঁর দৃপ্ত উপস্থিতি যেন হতাশ কর্মীদের উদ্দেশে উচ্চারণ করল — “লড়াই এখনও শেষ হয়নি।”
গ্রামের পর গ্রাম জুড়ে যাঁরা বছরের পর বছর দলীয় পতাকা কাঁধে নিয়ে প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়েছেন, যাঁরা রাজনৈতিক আক্রমণ, হুমকি ও ভয়ের মধ্যেও সংগঠনের পাশে থেকেছেন, সেইসব সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের মনোবল দীর্ঘদিন পর আজ নতুন করে উজ্জীবিত হল। কারণ তাঁরা দেখলেন, তাঁদের নেত্রী এখনও মাঠে আছেন, এখনও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি মুখোমুখি দাঁড়ানোর সাহস রাখেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ আবার প্রমাণ করলেন, তিনি শুধুমাত্র প্রশাসনিক প্রধান নন — তিনি আন্দোলনের মুখ, প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর এবং বাংলার সাধারণ মানুষের আস্থার শেষ ঠিকানা। সাংবিধানিক অধিকার, গণতন্ত্র এবং মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্নে আপস না করার যে রাজনৈতিক ঐতিহ্য তিনি বরাবর বহন করেছেন, আজকের উপস্থিতি সেই ইতিহাসকেই আরও একবার স্মরণ করিয়ে দিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই উপস্থিতি নিছক আইনি লড়াইয়ের অংশ নয়; এটি ছিল রাজনৈতিক ও মানসিক লড়াইয়েরও এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। হতাশা, বিভ্রান্তি ও ভয়ের আবহে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেন জানিয়ে দিলেন — “বাংলার মাটি এখনও মাথা নত করেনি।”