তোলাবাজি থেকে খুনের মামলা, জোড়া অভিযানে পুলিশের জালে দুই প্রাক্তন কাউন্সিলর ও তৃণমূল নেতা

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 25 d ago
তোলাবাজি থেকে খুনের মামলা, জোড়া অভিযানে পুলিশের জালে দুই প্রাক্তন কাউন্সিলর ও তৃণমূল নেতা
তোলাবাজি থেকে খুনের মামলা, জোড়া অভিযানে পুলিশের জালে দুই প্রাক্তন কাউন্সিলর ও তৃণমূল নেতা
 
কলকাতা

তোলাবাজি, দাদাগিরি এবং প্রতারণার অভিযোগে এবার পুলিশের জালে দুর্গাপুর পুরসভার দুই প্রাক্তন কাউন্সিলর। বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে দুর্গাপুর থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে হীরা বাউরী ও মানস রায়কে। শুক্রবার ধৃতদের দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, পুরনো খুনের মামলায় মুর্শিদাবাদ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের এক ব্লক সভাপতিকেও।
 
পুলিশ সূত্রে খবর, দুর্গাপুরের ফরিদপুর এলাকার বাসিন্দা হীরা বাউরীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই তোলাবাজি ও দাদাগিরির অভিযোগ উঠছিল। স্থানীয়দের একাংশ বারবার তাঁর বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। একইভাবে গোপালমাঠের বাসিন্দা প্রাক্তন কাউন্সিলর মানস রায়ের বিরুদ্ধেও একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ সামনে আসে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নানা সময়ে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হলেও পরিস্থিতির বিশেষ পরিবর্তন হয়নি।
 
সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তোলাবাজি, গুন্ডাগিরি এবং অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ার বার্তা দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। সেই আবহেই দুর্গাপুর থানার এই পদক্ষেপকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
 
পুলিশের দাবি, এলাকায় যারা দাদাগিরি, তোলাবাজি এবং সমাজবিরোধী কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে আগামী দিনেও ধারাবাহিক অভিযান চালানো হবে। উল্লেখ্য, প্রাক্তন কাউন্সিলর মানস রায় এর আগেও একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
 
এদিকে, মুর্শিদাবাদেও পুরনো খুনের মামলায় বড় পদক্ষেপ করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে নবগ্রাম ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মহম্মদ এনায়েতউল্লাহকে। নবগ্রামের পাঁচগ্রামের বাসিন্দা এনায়েত দীর্ঘদিন ধরে ব্লক সভাপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন।
 
পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৩ সালে মেহেবুব শেখ নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় এনায়েতউল্লাহ অভিযুক্ত। ওই খুনের মামলার পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র সংক্রান্ত মামলাও রয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নবগ্রাম থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
 
একই দিনে দুই জেলায় এই ধারাবাহিক পুলিশি অভিযানে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট বার্তা, আইনভঙ্গ কিংবা অসামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত কাউকেই রেয়াত করা হবে না।