সোমনাথ (গুজরাট):
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রবিবার শৌর্য যাত্রা সমাপ্ত করার পর সোমনাথ মন্দিরে প্রার্থনা ও পূজা করেন।প্রধানমন্ত্রী বীর হামিরজি গোহিল এবং সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মূর্তিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণও করেন। বীর হামিরজি গোহিল ১২৯৯ খ্রিস্টাব্দে জাফর খানের নেতৃত্বে পরিচালিত আক্রমণের সময় সোমনাথ মন্দির রক্ষা করতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।
এর আগে দিনটির শুরুতে, প্রধানমন্ত্রী মোদি সোমনাথে শৌর্য যাত্রায় অংশ নেন। এই যাত্রাটি ১০২৬ সালের জানুয়ারিতে মাহমুদ গজনভীর দ্বারা সোমনাথ মন্দিরে প্রথম নথিভুক্ত আক্রমণের পর থেকে ১,০০০ বছরের অবিচ্ছিন্ন বিশ্বাস ও দৃঢ়তার স্মরণে আয়োজিত চারদিনব্যাপী জাতীয় স্মরণ অনুষ্ঠানের অংশ ছিল। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল এবং উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাংভি ।
— ANI (@ANI) January 11, 2026
শোভাযাত্রার সময় প্রধানমন্ত্রী শঙ্খধ্বনি করেন এবং সমবেত জনতার শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন।‘শৌর্য যাত্রা’ সোমনাথ স্বাভিমান পর্বের অংশ হিসেবে আয়োজিত একটি প্রতীকী শোভাযাত্রা। এটি সাহস, ত্যাগ এবং সেই অদম্য চেতনাকে প্রতিফলিত করে, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সোমনাথকে অটুট রেখেছে। যাত্রার আগে গুজরাট পুলিশ মাউন্টেড ইউনিটের ১০৮টি ঘোড়া এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পৌঁছায়।
২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব, ১০২৬ সালে মাহমুদ গজনভীর দ্বারা সোমনাথ মন্দিরে প্রথম আক্রমণের ১,০০০ বছর পূর্তিকে স্মরণ করে।
এই আক্রমণ একটি দীর্ঘ সময়ের সূচনা করে, যার মধ্যে মন্দিরটি বারবার ধ্বংস ও পুনর্নির্মাণের মধ্য দিয়ে গেছে। তা সত্ত্বেও সোমনাথ মানুষের সামষ্টিক স্মৃতিতে গভীরভাবে প্রোথিত হয়ে রয়েছে। মন্দিরটির বারবার ধ্বংস ও পুনরুজ্জীবনকে বিশ্ব ইতিহাসে অনন্য বলে মনে করা হয়, যা এর অব্যাহত আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে।
কার্তক সুদ ১, দীপাবলির দিন, ১২ নভেম্বর ১৯৪৭ সালে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল সোমনাথের ধ্বংসাবশেষ পরিদর্শন করেন এবং মন্দিরটি পুনর্নির্মাণের সংকল্প ব্যক্ত করেন। তিনি একে ভারতের সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারের জন্য অত্যাবশ্যক বলে অভিহিত করেন। জনসমর্থনে পরিচালিত এই পুনর্নির্মাণ কাজের সমাপ্তি ঘটে ১১ মে ১৯৫১ সালে, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদের উপস্থিতিতে বর্তমান মন্দিরের প্রাণপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।
২০২৬ সালে দেশটি এই ঐতিহাসিক প্রাণপ্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানের ৭৫ বছর পূর্তি স্মরণ করছে। ভগবান শিবের ১২টি আদি জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে প্রথম হিসেবে পূজিত সোমনাথ মন্দির আরব সাগরের তীরে ১৫০ ফুট উচ্চ শিখর নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, যা অটুট বিশ্বাস ও জাতীয় সংকল্পের প্রতীক।