অপারেশন সিন্দুর’-এ বায়ুসেনার সাফল্য, প্রশংসায় সংসদীয় কমিটি, জোর আধুনিকীকরণে

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 12 h ago
অপারেশন সিন্দুর শেষে আদমপুর বিমানবাহিনী ঘাঁটিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
অপারেশন সিন্দুর শেষে আদমপুর বিমানবাহিনী ঘাঁটিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
 
নয়াদিল্লি

প্রতিরক্ষা বিষয়ক একটি সংসদীয় কমিটি ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সময় ভারতীয় বায়ুসেনার “প্রশংসনীয় ভূমিকা”-র জন্য বিশেষভাবে প্রশংসা করেছে। বুধবার সংসদে পেশ করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নত আকাশপথের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নির্ভুল আক্রমণ এবং দেশীয় প্রযুক্তির সফল প্রয়োগের মাধ্যমে বায়ুসেনা তাদের “অসাধারণ পেশাদারিত্ব ও কার্যকর প্রস্তুতি” প্রদর্শন করেছে। দ্রুত মোতায়েন এবং স্থলসেনার সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন সমন্বয়ের ফলে শত্রুপক্ষের অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে, যা এই অভিযানের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
 
একই প্রতিবেদনে, গত বছরের এই গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর “নির্ণায়ক ভূমিকা”-রও প্রশংসা করা হয়েছে। কমিটি মনে করেছে, প্রতিবেশী দেশগুলির প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে ভারতেরও ব্যয় বাড়ানো প্রয়োজন। যে কোনও শত্রুতার মোকাবিলায় কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সেনাবাহিনীর মূলধনী বাজেট (Capital Budget) যথেষ্ট হওয়া জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ২০২৫ সালে অপারেশন-পরবর্তী সময়ে ড্রোন, কাউন্টার-ড্রোন এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধের মতো আধুনিক সরঞ্জাম কেনার জন্য দেওয়া জরুরি অনুমোদনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হয়েছে।
 
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অনুদানের দাবির উপর ভিত্তি করে তৈরি এই প্রতিবেদনে সামরিক শক্তির আধুনিকীকরণের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। কমিটি মন্ত্রককে ভবিষ্যতের বাজেটে অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বায়ুসেনার যুদ্ধক্ষমতা বাড়াতে নতুন বিমান ও আধুনিক সরঞ্জামের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ অপরিহার্য বলে মত দেওয়া হয়েছে।
 
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বিত কাঠামো গড়ে তুলতে ‘থিয়েটারাইজেশন’ (Theaterisation) প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই উন্নত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করতে তিন বাহিনীর আধিকারিকদের নিয়ে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে, যারা বিশ্বের বিভিন্ন সামরিক ব্যবস্থার কার্যপদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করছে। প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে বাহিনীগুলির মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়েছে।
 
তবে, আরেকটি পৃথক প্রতিবেদনে কমিটি সৈনিক স্কুল, রাষ্ট্রীয় ইন্ডিয়ান মিলিটারি কলেজ (RIMC) এবং জাতীয় মিলিটারি স্কুলগুলিতে পড়ুয়াদের মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার (Dropout)) সমস্যাকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে। গত পাঁচ বছরে এই হার প্রায় ৭ শতাংশের কাছাকাছি ছিল। এর ফলে সরকারি সম্পদের অপচয় হচ্ছে এবং এনডিএ-তে ( NDA) যোগ দিতে ইচ্ছুক অন্যান্য প্রার্থীর সুযোগও সীমিত হচ্ছে। এই সমস্যার দ্রুত সমাধানের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
 
শেষে, সৈনিক স্কুল স্থাপনের পুরনো নীতি, বিশেষ করে জমি সংক্রান্ত নিয়মাবলি, পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে কমিটি। বর্তমানে দেশে মোট ৩৩টি সৈনিক স্কুল চালু রয়েছে। পাশাপাশি, RIMC-এ অধ্যয়নরত ছাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পরিকাঠামো, হোস্টেল এবং অন্যান্য সুবিধা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তাদের সশস্ত্র বাহিনীতে যোগদানের জন্য যথাযথভাবে প্রস্তুত করা যায়।