বাংলার দুই প্রান্তে রহস্যময় ড্রোন উদ্ধার, বাড়ছে কৌতূহল ও নিরাপত্তা প্রশ্ন

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 15 h ago
বাংলার দুই প্রান্তে রহস্যময় ড্রোন উদ্ধার, বাড়ছে কৌতূহল ও নিরাপত্তা প্রশ্ন
বাংলার দুই প্রান্তে রহস্যময় ড্রোন উদ্ধার, বাড়ছে কৌতূহল ও নিরাপত্তা প্রশ্ন
 
কলকাতা

পশ্চিমবঙ্গের দুই ভিন্ন জেলায় অল্প সময়ের ব্যবধানে উদ্ধার হওয়া দুটি ড্রোন ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূল থেকে পশ্চিম মেদিনীপুরের গ্রামাঞ্চল, দুই ক্ষেত্রেই ডিভাইসগুলির আকৃতি ছিল অনেকটা ছোট বিমানের মতো, যা সাধারণ মানুষের কৌতূহলের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
 
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালির কাছাকাছি পশ্চিম অমরাবতী গ্রামের কার্গিল সমুদ্রতটে প্রথম ড্রোনটি নজরে আসে মৎস্যজীবীদের। হলুদ-লাল রঙের ওই ডিভাইসটির ভিতরে জটিল যন্ত্রাংশ ও তার চোখে পড়ায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়দের ভিড় জমে যায় এলাকায়। পরে ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেটি উদ্ধার করে।
 
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ড্রোনটির গঠন ‘শিকরা’ মডেলের সঙ্গে মিল রয়েছে, যা সাধারণত প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত উচ্চগতির টার্গেট ড্রোন। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, এটি সম্ভবত সেনাবাহিনীর মহড়ার একটি অংশ, এবং বিষয়টি সেনা কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। ফলে আতঙ্কের কোনও কারণ নেই বলেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে কীভাবে এটি সমুদ্রতটে এসে পড়ল, তা নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে।
 
অন্যদিকে, একই দিনে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন ১ ব্লকের একটি ধানক্ষেত থেকেও উদ্ধার হয় আরেকটি ড্রোন। স্থানীয়রা সকালে সেটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে তদন্তে জানা যায়, এটি একটি বেসরকারি সংস্থার, ইন্ডিয়ান অয়েলের, নজরদারি কাজে ব্যবহৃত ড্রোন, যা পাইপলাইন সংক্রান্ত কাজের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল।
 
দুই ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনও যোগসূত্র না থাকলেও, রাজ্যে নির্বাচনী আবহের মধ্যেই এই ধরনের ড্রোন উদ্ধারের ঘটনা নানা জল্পনা উসকে দিয়েছে। নজরদারি, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নিরাপত্তা, এই তিনটি বিষয়ই এখন প্রশাসনের নজরে। পুলিশ উভয় ক্ষেত্রেই বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনায় কোনও বিভ্রান্তি বা উদ্বেগ না তৈরি হয়।