নয়া দিল্লি
দেশের একাধিক মহানগরে তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অসহনীয় গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের লক্ষ লক্ষ মানুষ ছুটে যাচ্ছেন পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে। ফলে জনপ্রিয় পর্যটনস্থলগুলিতে পর্যটকের সংখ্যা এতটাই বেড়েছে যে পাহাড়ি সড়কগুলিতে দীর্ঘ যানজট নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৩ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত রোহতাং পাসে মে মাসের শেষ পর্যন্ত পর্যাপ্ত তুষার থাকায় মানালিতে পর্যটকদের অভূতপূর্ব ভিড় দেখা যাচ্ছে। এর ফলে মানালি থেকে রোহতাং পাসগামী সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার মানালি-রোহতাং সড়কে প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ওই দিন সকাল ৬টায় মানালি থেকে যাত্রা শুরু করা পর্যটকদের মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরের রোহতাং পৌঁছাতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লেগেছে।
এই পরিস্থিতিতে অনেক পর্যটক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, চালকেরা নির্দিষ্ট লেন মেনে গাড়ি না চালানোর কারণেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া। অন্যদিকে স্থানীয় ট্যুর অপারেটরদের মতে, মারহি ও গ্রামফুর মধ্যে পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় পর্যটকেরা রাস্তার ধারে গাড়ি পার্ক করেন, যার ফলে বিশৃঙ্খলা বাড়ছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য উন্নত সড়ক পরিকাঠামো, নির্দিষ্ট পার্কিং এলাকা, শৌচাগার এবং অন্যান্য মৌলিক সুবিধা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে ‘হ্রদের শহর’ নৈনিতালও এখন পর্যটকে উপচে পড়ছে। শহরের মল রোড, স্নো ভিউ, নৈনিতাল চিড়িয়াখানা এবং কেভ গার্ডেন-সহ প্রায় সব পর্যটনকেন্দ্রেই মানুষের ঢল নেমেছে। নৈনিতাল হ্রদে নৌবিহারের জন্য পর্যটকদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ছে।
পর্যটকের ভিড়ে শহরের হোটেল, গেস্ট হাউস এবং হোমস্টেগুলি সম্পূর্ণভাবে বুক হয়ে গেছে। রেস্তোরাঁ ও হোটেল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আগের মন্দার তুলনায় গত কয়েক মাসে তাঁদের ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
তবে পর্যটক ও ভক্তদের অতিরিক্ত চাপের কারণে শহরের যানবাহন ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। মল রোড, ভাবালি রোড এবং কালাধুঙ্গি রোডে তীব্র যানজটের জেরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে বাবা নিম করৌলি মহারাজের কৈঞ্চি ধাম আশ্রমের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে দেশ-বিদেশ থেকে আসা ভক্তদের কারণে মারওয়াড়ি-গোবিন্দঘাট এবং যোশীমঠ-সেলাং এলাকায় ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে চামোলি জেলায় ভারী বৃষ্টিপাত ও মাঝেমধ্যে তুষারপাত হলেও তীর্থযাত্রীদের উৎসাহে ভাটা পড়েনি। বদ্রীনাথ ধামে ইতিমধ্যেই ৭.২৫ লক্ষেরও বেশি ভক্তের আগমন ঘটেছে।
তবে এর মধ্যেই দিল্লি, মুম্বই-সহ সমতল এলাকার বহু পর্যটক হঠাৎ করে বদ্রীনাথের মতো উচ্চতায় অবস্থিত অঞ্চলে যাওয়ায় অক্সিজেনের ঘাটতি, অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ, নিম্ন উচ্চতার এলাকা থেকে আসা পর্যটকদের সরাসরি উঁচু পাহাড়ি অঞ্চলে না গিয়ে প্রথমে ১-২ দিন অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার স্থানে থেকে শরীরকে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।
সব মিলিয়ে গরম থেকে রেহাই পেতে পাহাড়ে ভিড় জমাচ্ছেন পর্যটকেরা। যদিও ভ্রমণের আনন্দের পাশাপাশি নানা সমস্যারও মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাঁদের। অন্যদিকে পর্যটনকেন্দ্রগুলির ব্যবসায়ীরা এই পর্যটক ঢলে লাভবান হচ্ছেন। তাই নিরাপদ ও আনন্দদায়ক ভ্রমণের জন্য পর্যটকদের সচেতনতা ও সতর্কতার সঙ্গে যাত্রা করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।