বিপদের দিনে অভিষেক একা! দিল্লির কংগ্রেস পাশে, নীরব তৃণমূলের ‘সুখের পায়রারা’

Story by  Debkishor Chakraborty | Posted by  Aparna Das • 3 h ago
পদের দিনে অভিষেক একা! দিল্লির কংগ্রেস পাশে, নীরব তৃণমূলের ‘সুখের পায়রারা’
পদের দিনে অভিষেক একা! দিল্লির কংগ্রেস পাশে, নীরব তৃণমূলের ‘সুখের পায়রারা’
 
দেবকিশোর চক্রবর্তী / কলকাতা

রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও দলের অন্যতম প্রধান মুখ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। তবে হামলার ঘটনার থেকেও বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে অন্য এক প্রশ্ন, বিপদের দিনে কোথায় ছিলেন তাঁর দলের বহু বিধায়ক, নেতা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযাত্রীরা?
 
শনিবার সকালে বেলেঘাটায় রাজনৈতিক হিংসায় নিহত এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের মুখপাত্র ও বিধায়ক কুণাল ঘোষ। কর্মসূচি শেষে কালীঘাটে ফেরার পর রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখার প্রতিনিধিরা তাঁর হাতে একটি নোটিশ তুলে দেন বলে জানা যায়।
 
এরপর সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রয়াত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে রওনা দেন তিনি। অভিযোগ, পথে তীব্র বিক্ষোভ ও আক্রমণাত্মক পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয় তাঁকে। সাংবাদিকদের সামনে অভিষেক দাবি করেন, ঘটনায় বড়সড় দুর্ঘটনা পর্যন্ত ঘটতে পারত।
 
ঘটনার পর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার ঝড় ওঠে জাতীয় স্তরে। দিল্লিতে যে কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে রাজ্যে সংঘাতের রাজনীতিতে সরব থেকেছে তৃণমূল, সেই কংগ্রেসই এদিন প্রকাশ্যে অভিষেকের পাশে দাঁড়ায়। সমাজমাধ্যমে উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানান কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গে। সমর্থনের বার্তা আসে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল-সহ একাধিক জাতীয় নেতার কাছ থেকেও।
 
কিন্তু জাতীয় রাজনীতির এই সমর্থনের বিপরীতে তৃণমূলের অন্দরের ছবি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দলের দ্বিতীয় সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ মুখ এবং সংসদে দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠলেও অধিকাংশ বিধায়ক ও প্রভাবশালী নেতাকে প্রকাশ্যে সরব হতে দেখা যায়নি।

এক সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে থাকা সুবিধাভোগী ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক নেতাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজনৈতিক মহলের কটাক্ষ, "সুখের দিনে ভিড় করা সেই পায়রাদের" অধিকাংশই বিপদের দিনে কার্যত অদৃশ্য। দলীয় কর্মীদের একাংশের মধ্যেও এই নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, যে সোনারপুর এলাকায় এই ঘটনার সূত্রপাত, সেটি তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষের রাজনৈতিক প্রভাবক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। অথচ ঘটনার পর তাঁর কোনও প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া সামনে না আসায় জল্পনা আরও বেড়েছে। যদিও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, প্রকাশ্যে মন্তব্য না করলেই কাউকে দায়ী করা যায় না।

তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—যে নেতা গত এক দশকে তৃণমূলের সাংগঠনিক বিস্তার, নির্বাচনী কৌশল এবং যুব নেতৃত্বের প্রধান মুখ হয়ে উঠেছেন, তাঁর ওপর হামলার অভিযোগের পর দলের ভেতর থেকে এত সীমিত প্রতিক্রিয়া কেন?

ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনও রাজনৈতিক নেতার ওপর হামলা গ্রহণযোগ্য নয় বলেই মত অধিকাংশের।

এখন নজর প্রশাসনিক তদন্তের পাশাপাশি তৃণমূলের অন্দরমহলের প্রতিক্রিয়ার দিকে। কারণ এই ঘটনার পর একটাই প্রশ্ন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে—বিপদের দিনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়াল দিল্লির বিরোধী নেতারা, কিন্তু তাঁর নিজের দলের অনেকেই কি নীরব দর্শকের ভূমিকাতেই থেকে গেলেন?