অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলায় গ্রেফতার ৪, রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 5 h ago
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলায় গ্রেফতার ৪, রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলায় গ্রেফতার ৪, রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে
 
কলকাতা

দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনায় চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, এলাকায় সংগ্রহ করা ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে রাতভর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়।
 
শনিবার সোনারপুরে ভোট-পরবর্তী হিংসার শিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় একদল বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি তাঁর কনভয় লক্ষ্য করে পাথর ও ডিম ছোড়ে এবং কটূক্তি করতে থাকে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কিছু ব্যক্তি অভিষেককে শারীরিকভাবে আক্রমণেরও চেষ্টা করে। নিরাপত্তারক্ষীদের দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
 
হামলার সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্রিকেট হেলমেট পরে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি কর্মীরা তাঁকে হত্যার চেষ্টা করেছে। হামলাকারীরা ‘চোর, চোর’ স্লোগানও দেয় বলে জানা গিয়েছে।
 
পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, এখনও পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা রুজু করেছে। ধৃত চার জনকে বারুইপুর আদালতে তোলা হবে।
 
ঘটনার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।
 
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র তরজা। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলে সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “শাসকরাই খুনি হয়ে উঠেছে, বিজেপি, তোমাদের লজ্জা হওয়া উচিত।”
 
পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম এবং ডেরেক ও’ব্রায়েন হাসপাতালে গিয়ে অভিষেকের সঙ্গে দেখা করেন।
 
অন্যদিকে, হামলার ঘটনার নিন্দা করলেও বিজেপি সম্পূর্ণভাবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক সমাজে এ ধরনের ঘটনা কাম্য নয়। বিজেপি কোনওভাবেই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। তবে বছরের পর বছর অত্যাচারের শিকার স্থানীয় মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেও এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।”
 
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এই হামলার জন্য বিজেপিকে দায়ী করছে, অন্যদিকে বিজেপি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা তৃণমূলের বিরুদ্ধে জনরোষের কথা তুলে ধরছে। ইতিমধ্যেই চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। হামলার প্রকৃত নেপথ্য কারণ, অভিযুক্তদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং এই ঘটনার দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক প্রভাব কী হতে পারে, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে।