এসআইআর ইস্যুতে বিরোধীদের নিশানা: “ভয় পাবেন না, আপনারা দেশের নাগরিক”, আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর
শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ,বহরমপুর:
এসআইআর ইস্যুতে রাজ্য-রাজনীতির উত্তাপ আরও চড়ালো মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন আক্রমণ। বহরমপুরের জনসভা থেকে সরাসরি বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে নিশানা করে তৃণমূল নেত্রী অভিযোগ করেন, “বাংলায় সরকার ফেলতে চাইছে বিজেপি। এসআইআরকে হাতিয়ার করে রাজনৈতিক চক্রান্ত করছে।”
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “এসআইআর নিয়ে যেটা হচ্ছে, সেটা সম্পূর্ণ বিরোধী দলীয় ষড়যন্ত্র। বাংলাকে অশান্ত করার খেলা চলছে। বিজেপি নিজেরই কবর খুঁড়ছে, বাংলায় বিভাজন ছড়ানোর চেষ্টা করছে।”
সভামঞ্চ থেকে মানুষের উদ্দেশে সরাসরি আশ্বস্তির বার্তা দেন মমতা। তিনি স্পষ্ট বলেন, “কাউকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হবে না। আপনারা দেশের নাগরিক, দেশের ভোটার। নিশ্চিন্তে থাকুন, আমি আছি আপনাদের পাশে। ভয় পাবেন না।”
তিনি আরও জানান, এই মুহূর্তে তাঁর উদ্দেশ্য নির্বাচনী প্রচার নয়, মানুষের আতঙ্ক দূর করা। মমতার ভাষণে উঠে আসে উদ্বেগহীন থাকার আবেদন—“আমি ভোট চাইতে আসিনি। এসেছি আপনাদের মনে যে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে সেটা দূর করতে। কেউ আতঙ্কে বাড়ি ছেড়ে পালাবেন না। বাংলার মানুষকে আমি রক্ষা করব।”
এসআইআর সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় 'হিয়ারিং' বা শুনানির বিষয়েও মুখ্যমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, “নোটিশ এলে hearing এ অবশ্যই যাবেন। না গেলে ভোটারলিস্ট থেকে নাম কেটে দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ভয় না পেয়ে সকল নথি সঙ্গে নিয়ে hearing এ উপস্থিত থাকবেন।”
তৃণমূল সুপ্রিমোর মন্তব্য, কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার মানুষকে আতঙ্কিত করতে চাইছে। তাঁর দাবি, সংবিধান মানুষের অধিকার নিশ্চিত করেছে— সেই অধিকার কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা কারও নেই। মমতার অভিযোগ, “এনআরসি থেকে শুরু করে নাগরিকত্ব নিয়ে যত বিভ্রান্তি, সবই পরিকল্পিত। সামনে নির্বাচন, তাই আবার ভয় দেখানোর রাজনীতি শুরু হয়েছে। এস আই আর এর নামে এনআরসি করার চেষ্টা করছে বিজেপি।”
সভামঞ্চ থেকে বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে তাঁর কটাক্ষ, “দাঙ্গা, হিংসা, বিভাজনের রাজনীতি বাংলায় চলবে না। আমরা ইতিহাসকে ভুলতে দিই না। এ রাজ্যের মানুষ শান্তি ভালোবাসেন— সাম্প্রদায়িকতাকে তারা কখনও প্রশ্রয় দেননি।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এসআইআর ইস্যুতে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় জনমানসের মধ্যে যে উদ্বেগ বেড়েছে, তা প্রশমনে মুখ্যমন্ত্রীর এই ধারাবাহিক সভা একটি কৌশলগত রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র সুর বজায় রেখে তিনি একইসঙ্গে মানুষকে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় সচেতন থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন— যা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে।
পরপর বহরমপুর হয়ে মালদার সভা শেষ হলেও মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা স্পষ্ট— বাংলার নাগরিক অধিকার কোনওভাবেই খর্ব হতে দেবেন না তিনি।