শিলিগুড়ি
দার্জিলিংয়ের সিটংয়ে একটি হোমস্টেতে বারবিকিউয়ের আগুনে গুরুতরভাবে দগ্ধ হলেন এক নববধূ। ঘটনায় তাঁর শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। স্ত্রীকে আগুনের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে দগ্ধ হয়েছেন তাঁর স্বামীও। বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাটি ঘটে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ, রান্নার তেলের পরিবর্তে বারবিকিউতে কেরোসিন ঢালার পর আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
দগ্ধ মহিলার নাম নিকিতা সাহা। তিনি বর্তমানে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর স্বামী সমীর দাসও আগুন নেভাতে গিয়ে দগ্ধ হন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক পুলিশ আধিকারিক।
উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার বাসিন্দা নিকিতা ও সমীর প্রায় দুই মাস আগে বিয়ে করেন। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর তাঁদের বিয়ে হয়। কয়েক দিন আগে হানিমুনে সিটংয়ে গিয়েছিলেন তাঁরা।
ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে কুরসিয়ং থানায় হোমস্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ এবং যে পাত্রে তরল পদার্থটি ছিল, সেটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বারবিকিউয়ের উপর কিছু ঢালার পর আচমকাই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নিকিতার শরীরে আগুন ধরে যায়। তাঁকে বাঁচাতে সমীর নিজের টি-শার্ট খুলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন।
সমীরের অভিযোগ, বারবিকিউতে টারপেনটাইন তেল ঢালার পরই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে, হোমস্টের মালিক নিহাল আয়ান এক কর্মীর গাফিলতির কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর দাবি, রান্নার তেলের পরিবর্তে ভুল করে কেরোসিন ঢেলে দেওয়া হয়েছিল।
পরিবারের আরও অভিযোগ, হোমস্টেতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। দুর্ঘটনার পরও দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, নিকিতাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি গাড়ি ডাকা হলেও সেটি প্রায় ৪০ মিনিট পরে পৌঁছয়। প্রথমে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, আগুন লাগার সঠিক কারণ তদন্তের পরই নিশ্চিতভাবে জানা যাবে।