ভারত–ইসরায়েল সম্পর্কের নতুন দিগন্ত: নেসেটে মোদির ঐতিহাসিক বার্তা

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 18 h ago
ভারত–ইসরায়েল সম্পর্কের নতুন দিগন্ত: নেসেটে মোদির ঐতিহাসিক বার্তা
ভারত–ইসরায়েল সম্পর্কের নতুন দিগন্ত: নেসেটে মোদির ঐতিহাসিক বার্তা
 
নয়া দিল্লি 

ভারত ও ইসরায়েলের সম্পর্ক বর্তমানে কৌশল, অর্থনীতি এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার এক অভূতপূর্ব পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। দুই দিনের সরকারি সফরে বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইসরায়েলি সংসদ নেসেটে ভাষণ দেন এবং দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার বার্তা আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেন। মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূরাজনীতি ও গাজা পরিস্থিতির পটভূমিকায় এই বক্তব্য ভারতীয় পররাষ্ট্রনীতির এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
 
“ভারত দৃঢ়ভাবে ইসরায়েলের পাশে”

নিজের বক্তব্যের শুরুতেই মোদি ৭ অক্টোবর ২০২৩-এ হামাসের আক্রমণকে “নিষ্ঠুর সন্ত্রাসী হামলা” বলে আখ্যায়িত করেন এবং নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, “আপনাদের যন্ত্রণা আমরা অনুভব করি, আপনাদের বেদনা আমাদের স্পর্শ করে। ভারত আজ যেমন, ভবিষ্যতেও একই দৃঢ়তার সঙ্গে ইসরায়েলের পাশে থাকবে।”
 
তিনি সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ে বৈশ্বিক ঐক্য ও সুসংহত প্রয়াসের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, “নিরপরাধ মানুষের হত্যা কোনো যুক্তিতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ভারতও ২৬/১১ মুম্বই হামলার ক্ষত বয়ে বেড়ায়, এবং সেই কারণেই ভারতের অবস্থান সবসময়ই ছিল “শূন্য সহনশীলতা”।

শান্তি, আলোচনার পথ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা

মোদি শুধু সংহতির বার্তা দিয়েই থেমে থাকেননি; তিনি জোর দিয়ে বলেন, আঞ্চলিক স্থিতি ও শান্তির জন্য সংলাপ ও সহযোগিতার পথই সবচেয়ে জরুরি। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ অনুমোদিত গাজা শান্তি-উদ্যোগকে সমর্থন করে মোদি জানান, এই উদ্যোগ “ন্যায়সম্মত ও টেকসই শান্তির ভিত্তি স্থাপন করতে সক্ষম।”
 
ভারত–ইসরায়েল সম্পর্ক: বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক

তিনি ভারত ও ইসরায়েলের সম্পর্ককে “বিশ্বাসের ওপর দাঁড়ানো অংশীদারিত্ব” বলে উল্লেখ করেন। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার পাশাপাশি শিল্প-বাণিজ্য, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং কোয়ান্টাম প্রযুক্তি–সহ নানা উদীয়মান ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে।
 
মোদি আব্রাহাম চুক্তির প্রশংসা করে বলেন, এটি আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর পথে একটি সাহসী ও অগ্রগামী পদক্ষেপ। ভাষণের শেষে মোদিকে নেসেটের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদান করা হয়, যা কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর ক্ষেত্রে এই প্রথম এবং দুই দেশের গভীর ও দৃঢ় সম্পর্কের এক ঐতিহাসিক স্বীকৃতি।
 
এই সফর ভারতীয় কূটনীতির দুটি স্পষ্ট বার্তা সামনে আনে:

** সন্ত্রাসবাদের প্রতি সম্পূর্ণ অসহনশীলতা ও দৃঢ় বিরোধিতা,
 
** শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সংলাপের ভিত্তিতে আঞ্চলিক সমাধানের অটল সমর্থন।
 
মোদির এই ঐতিহাসিক সফর প্রমাণ করে, বৈশ্বিক বা আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ যত কঠিনই হোক, ভারত তার নীতিতে আস্থা, আলোচনার মনোভাব এবং অংশীদারিত্বের মূল্যবোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।