বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের যোগে হঠাৎ আলোচনায় এনসিপিআই, দাবি—‘বাংলার সবচেয়ে বড় সংসদীয় শক্তি’
কলকাতা:
মাত্র একদিন আগেও জাতীয় রাজনীতিতে প্রায় অচেনা নাম ছিল ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ এই দলে যোগ দেওয়ার পরই রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার সামাজিক মাধ্যমে দলটি দাবি করেছে, "পশ্চিমবঙ্গ থেকে লোকসভায় সবচেয়ে বড় সংসদীয় শক্তি এখন এনসিপিআই।"
দলের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে বর্তমানে এনসিপিআইয়ের দখলে রয়েছে ২০টি আসন, বিজেপির ১২টি, তৃণমূল কংগ্রেসের ৮টি এবং কংগ্রেসের ১টি আসন। সেই পরিসংখ্যান তুলে ধরে দলটি দাবি করেছে, বাংলার জনগণের প্রতিনিধিত্বের নতুন কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে তারা।
সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় এনসিপিআই জানিয়েছে,"২০টি লোকসভা আসন নিয়ে এনসিপিআই পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় সংসদীয় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। নেতৃত্ব, প্রতিনিধিত্ব এবং মানুষের ম্যান্ডেটই বাংলার ও ভারতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।"
ত্রিপুরাভিত্তিক নিবন্ধিত হলেও অস্বীকৃত এই রাজনৈতিক দলের পশ্চিমবঙ্গের ঠিকানা খুঁজে পাওয়া গেছে হাওড়ার সাঁকরাইল এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই সম্পত্তির মালিক উত্তীয় কুণ্ডু ও তাঁর স্ত্রী শিউলি কুণ্ডু। প্রায় আট বছর আগে তাঁরা নদিয়া জেলা থেকে সেখানে বসবাস শুরু করেন।সোমবার সকাল থেকেই ওই বাড়ির বাইরে কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর মোতায়েন লক্ষ্য করা যায়।
বাড়ির দেওয়ালে দেখা যায় 'জাগো বিশ্ব' এবং 'আনঅর্গানাইজড উইমেন ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন'-এর গ্রাফিতি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ওই দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা পরিচালনা করেন এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন।
বাড়ির মূল ফটকে থাকা সাইনবোর্ডে উত্তীয় কুণ্ডুকে একটি বাংলা সংবাদপত্রের সম্পাদক, গণিত শিক্ষক, অডিটর, স্বাস্থ্য-পরামর্শদাতা এবং যোগ স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, শিউলি কুণ্ডুকে কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী এবং ভূমি জরিপ সংক্রান্ত কাজে যুক্ত বলে পরিচয় দেওয়া হয়েছে।
এনসিপিআই পৃথক সামাজিক মাধ্যম পোস্টে তৃণমূল ছেড়ে আসা ২০ জন সাংসদকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে,"তাঁদের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূল স্তরের যোগাযোগ এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা দলকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করবে।"
উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা এবং নিজেকে দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও জাতীয় সংগঠন সম্পাদক দাবি করা শান্তনু দে বলেন,"এটি আমাদের দলের বিকাশের নতুন সুযোগ। আমরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সমর্থন করি এবং এনডিএ-র অংশীদার হিসেবে কাজ করতে চাই। কাকলি ঘোষ দস্তিদার যদি আলোচনার জন্য আমাকে দিল্লিতে ডাকেন, তাহলে আমরা একসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হতে পারি।"
এই নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহ পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। যদি এই যোগদান সাংবিধানিক ও সংসদীয় প্রক্রিয়ায় বৈধতা পায়, তাহলে লোকসভায় বাংলার রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের চিত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। একইসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক শক্তি, বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ এবং এনডিএ-র সম্ভাব্য নতুন মিত্রদের নিয়েও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
তবে, এই দলবদল এবং আসনসংক্রান্ত দাবির বিষয়ে লোকসভার সচিবালয় বা নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও চূড়ান্ত অবস্থানের দিকেও নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।