ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় জায়গা পাওয়ার পথে ভারতের আরও ৫টি ঐতিহ্য

Story by  PTI | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 18 h ago
ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় জায়গা পাওয়ার পথে ভারতের আরও ৫টি ঐতিহ্য
ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় জায়গা পাওয়ার পথে ভারতের আরও ৫টি ঐতিহ্য
 
নয়াদিল্লি: 

মধ্যপ্রদেশের উদয়গিরি গুহা-সহ আরও পাঁচটি ঐতিহ্যবাহী স্থান ভারতের ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের টেন্টেটিভ তালিকায় যুক্ত হয়েছে। এই পাঁচটি সংযোজনের ফলে ভারতের টেন্টেটিভ তালিকায় থাকা ঐতিহ্যবাহী স্থানের সংখ্যা বেড়ে হল ৭৮।

সংস্কৃতি মন্ত্রকের PIB Culture-এর তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সংযোজনকে দেশের ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে একটি ‘গর্বের মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন পাঁচটি সংযোজন হল—বাঘ গুহাচিত্র, চম্বল উপত্যকার মন্দিরসমূহের গুচ্ছ, উদয়গিরি গুহা, গিন্নোরগড় এবং ‘সাইটস অব সত্যাগ্রহ’—যার মধ্যে শেষটি ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে একটি আন্তঃদেশীয় প্রস্তাব।

ইউনেস্কোর ওয়েবসাইট অনুযায়ী, মধ্যপ্রদেশের উদয়গিরি পাহাড়ে গুপ্তদের পৃষ্ঠপোষকতায় মূলত খ্রিস্টীয় চতুর্থ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে পঞ্চম শতাব্দীর গোড়ার দিকে একটি পাথর কেটে তৈরি ধর্মীয় স্থাপত্য গড়ে ওঠে। এখানে রয়েছে ২০টি গুহা, ভাস্কর্য, শিলালিপি, চলাচলের পথ, পাথরের গায়ে প্রাচীন চিহ্ন ও লেখ, পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক ও জলসম্পদ-সংক্রান্ত বৈশিষ্ট্য।

মধ্যপ্রদেশের পশ্চিমাংশে বাঘনি নদীর তীরে বিন্ধ্য পর্বতমালার দক্ষিণ ঢালে অবস্থিত বাঘ গুহা মূলত নয়টি পাথর কেটে তৈরি বৌদ্ধ গুহার সমষ্টি। ব্যাসল্ট-প্রধান এলাকার মধ্যে এখানকার বেলেপাথরের স্তর গুহাগুলির স্থাপত্য এবং দেয়ালচিত্র সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।

এছাড়াও তালিকায় জায়গা পেয়েছে মধ্য ভারতের প্রাক্তন রাজ গন্ড শাসকদের প্রধান সুরক্ষিত রাজধানী গিন্নোরগড় দুর্গ এবং মধ্যপ্রদেশের চম্বল উপত্যকার মন্দিরসমূহ—বটেশ্বর, পদাবলী ও ককরমঠ।কোনও স্থানকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদার জন্য বিবেচনা করার আগে সেটিকে প্রথমে টেন্টেটিভ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে হয়।

পঞ্চম সংযোজনটি হল ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা নিয়ে প্রস্তাবিত ‘সাইটস অব সত্যাগ্রহ’। এই আন্তঃদেশীয় ঐতিহ্য প্রস্তাবের মাধ্যমে মহাত্মা গান্ধীর সত্যাগ্রহের ধারণার বিকাশকে তুলে ধরা হয়েছে—দক্ষিণ আফ্রিকায় এর ধারণার সূচনা থেকে ভারতে এর পরীক্ষা, বিকাশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ পর্যন্ত।

প্রস্তাবিত এই ঐতিহ্যের মোট নয়টি স্থান রয়েছে। এর মধ্যে দুটি দক্ষিণ আফ্রিকায় এবং সাতটি ভারতে। গান্ধী ১৮৯৩ থেকে ১৯১৪ সাল পর্যন্ত ২১ বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় কাটিয়েছিলেন। ভারতের স্থানগুলির মধ্যে রয়েছে মহাত্মা গান্ধী সত্যাগ্রহ স্মারক, সাবরমতী আশ্রম, মণি ভবন, হরিজন সেবক সংঘ কমপ্লেক্স, সেবাগ্রাম আশ্রম, আগা খান প্যালেস এবং গান্ধী স্মৃতি।

দক্ষিণ আফ্রিকার পিটারম্যারিট্‌জবার্গ স্টেশন ও ফিনিক্স সেটেলমেন্ট থেকে শুরু করে ভারতের বিভিন্ন স্থান—এই নয়টি উপাদান সত্যাগ্রহের বিবর্তনের বিভিন্ন পর্যায়কে তুলে ধরে। বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ হিসেবে সত্যাগ্রহের সূচনা, সত্য ও অহিংসার আদর্শে গড়ে ওঠা সম্প্রদায়ের পরীক্ষামূলক পর্যায়, ভারতে ফিরে গণআন্দোলনে এর বিস্তার এবং পরবর্তীতে আন্দোলনের উত্তরাধিকার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ—পুরো ধারাটিই এই প্রস্তাবে প্রতিফলিত হয়েছে।