ওড়িশায় বন্যায় ১.৪ লক্ষ মানুষকে সরানো হল নিরাপদ আশ্রয়ে, সতর্ক উপকূলীয় জেলাগুলি

Story by  PTI | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 30 m ago
ওড়িশায় বন্যায় ১.৪ লক্ষ মানুষকে সরানো হল নিরাপদ আশ্রয়ে, সতর্ক উপকূলীয় জেলাগুলি
ওড়িশায় বন্যায় ১.৪ লক্ষ মানুষকে সরানো হল নিরাপদ আশ্রয়ে, সতর্ক উপকূলীয় জেলাগুলি
 

ভুবনেশ্বর/বালেশ্বর: 

নতুন করে বন্যার জেরে গত চার দিনে ওড়িশার বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ১.৪ লক্ষ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে রাজ্য সরকার। মহানদীতে জলস্তর বাড়ায় উপকূলীয় জেলাগুলিকেও সতর্ক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।

রাজ্যের রাজস্ব ও বিপর্যয় মোকাবিলা মন্ত্রী সুরেশ পূজারি সোমবার জানান, নিচু এলাকা থেকে ৭,৮৩৪টি গ্রামের ১,৩৬০টি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ১.৪ লক্ষ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৩৮টি পুর ও নগর স্থানীয় সংস্থার ২১৯টি ওয়ার্ডও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঘনবসতিপূর্ণ উপকূলীয় জেলাগুলির মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া মহানদীতেও হিরাকুদ বাঁধ থেকে অতিরিক্ত জল ছাড়ার পর ‘মাঝারি মাত্রার বন্যা’ দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।

জলসম্পদ দফতরের ইঞ্জিনিয়ার-ইন-চিফ দিলীপ কুমার রাউত জানান, কটকের কাছে মুন্ডালি গেজ স্টেশনে প্রায় ৮ লক্ষ কিউসেক জল প্রবাহিত হওয়ার সময় মহানদীতে ‘মাইনর ফ্লাড’ দেখা দেয়। তাঁর কথায়, মুন্ডালিতে জলপ্রবাহ ১০ লক্ষ কিউসেক ছাড়ালে তা মহানদীর ক্ষেত্রে বড় বন্যা হিসেবে বিবেচিত হয়।

জলস্তর বাড়ায় মহানদীর বদ্বীপ এলাকার একাধিক গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় কটক, খুরদা, পুরী, জগৎসিংহপুর ও কেন্দ্রাপাড়া জেলার প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে উত্তর ওড়িশার বালেশ্বর, ভদ্রক, যাজপুর ও ময়ূরভঞ্জ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ইতিমধ্যেই জলমগ্ন। সুবর্ণরেখা, বুধাবলঙ্গ, জলকা, বৈতরণী, সালন্দী এবং তাদের শাখা নদীতে জলস্তর বৃদ্ধির জেরেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।

তবে মন্ত্রী সুরেশ পূজারি জানিয়েছেন, বিভিন্ন নদীতে জলস্তর কমতে শুরু করায় আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বালেশ্বর জেলার কালেক্টর সূর্যবংশী ময়ূর বিকাশ জানান, সুবর্ণরেখা, বুধাবলঙ্গ ও জলকা নদীর বন্যায় জেলার ১১টি ব্লকের ৩.৫ লক্ষেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ভোগরাই, জলেশ্বর, বালিয়াপাল, বালেশ্বর, রেমুনা, নীলগিরি ও সোরো ব্লক থেকে ৬৭ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

রাউত জানান, উত্তর ওড়িশার সুবর্ণরেখা-সহ বিভিন্ন নদীর জলস্তর এখন বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। যদিও জলস্তর কমছে, বালেশ্বর, ভদ্রক ও যাজপুরের বেশ কয়েকটি গ্রামে এখনও প্রায় তিন ফুট জল জমে রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ আরও জোরদার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মহানদীতে সোমবার রাতে বন্যার জলপ্রবাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছতে পারে এবং মুন্ডালিতে জলপ্রবাহ ৮ লক্ষ কিউসেক পর্যন্ত উঠতে পারে। হিরাকুদ বাঁধের ৩০টি স্লুইস গেট দিয়ে জল ছাড়া হচ্ছে।

মন্ত্রী সুরেশ পূজারি জানিয়েছেন, বন্যাকবলিত এলাকায় মোট ৬৪টি বিপর্যয় মোকাবিলা দল মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে জলমগ্ন এলাকা, রাস্তায় জল জমা এবং প্রয়োজন হলে শহরের আন্ডারপাস বন্ধ করার বিষয়ে জেলা প্রশাসনগুলিকে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি ভূমিধসের আশঙ্কা এবং জলমগ্ন এলাকায় উদ্যানজাত ফসল ও জমিতে দাঁড়িয়ে থাকা ফসলের ক্ষতির বিষয়েও আধিকারিকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।