শ্রীনগর:
জম্মু-কাশ্মীরের ৬১৬টি হিমবাহ হ্রদের মধ্যে ৬৮টিকে সম্ভাব্য বিপজ্জনক হিমবাহ হ্রদ (PDGL) হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। মঙ্গলবার বিধানসভায় এই তথ্য জানিয়েছে জম্মু-কাশ্মীর সরকার।
ন্যাশনাল কনফারেন্সের বিধায়ক তনভীর সাদিকের প্রশ্নের উত্তরে সরকার জানায়, কিস্তোয়ার, গান্ধেরবাল, কুলগাম ও অনন্তনাগ জেলায় গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড বা GLOF-সংক্রান্ত ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়েছে। এই হ্রদগুলির নিয়মিত পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন।
সরকারের নির্দেশে কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয় ৬১৬টি হিমবাহ হ্রদ নিয়ে সমীক্ষা চালিয়েছে। ১২টি জেলায় ছড়িয়ে থাকা এই হ্রদগুলির মোট আয়তন ২৮.৬২ বর্গকিলোমিটার।
জম্মু-কাশ্মীরের হিমবাহ ও হিমবাহ হ্রদ নিয়ে নজরদারি জোরদার করতে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে একটি কোর কমিটি গঠন করা হয়। ১৭টি নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে ওই কমিটি ২৪টি হ্রদকে A, B ও C—তিনটি শ্রেণিতে চিহ্নিত করেছে।এছাড়া ন্যাশনাল রিমোট সেন্সিং সেন্টার (NRSC) জম্মু-কাশ্মীরে ৫,৫৪৬টি হিমবাহ হ্রদ চিহ্নিত করে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত দু’বছরে মেঘভাঙা বৃষ্টি ও হড়পা বানের ঘটনায় জম্মু-কাশ্মীরে ২৪ হাজার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৫ হাজার রাস্তা এবং ৪ হাজার জল প্রকল্প। একই সময়ে প্রায় ১ লক্ষ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে উপত্যকার তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে হিমবাহ গলার বিষয়টিও প্রশাসনের নজরে রয়েছে। হিমবাহ গলার ফলে গঠিত হ্রদগুলির আয়তন ও অবস্থার পরিবর্তন পর্যবেক্ষণে সরকারি সংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলি সমীক্ষা চালাচ্ছে।
জম্মু-কাশ্মীরের হিমবাহ হ্রদ সংক্রান্ত এই তথ্যগুলি সামনে আসার ফলে জলবায়ু পরিবর্তন, হিমবাহের পরিবর্তন এবং জলসম্পদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও তথ্যভিত্তিক প্রস্তুতির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে।