নয়াদিল্লি:
আগামী কয়েক মাসে বিশ্বে বড় ধরনের খাদ্য সংকট তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। নিউ ইয়র্কে এশিয়া সোসাইটির এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ইউক্রেন ও ইরান-উপসাগরীয় সংঘাতের প্রভাব পড়ছে খাদ্যশস্যের সরবরাহ, সারের জোগান এবং জ্বালানি বাজারে। এর ফলে বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির উপর চাপ বাড়ছে।
জয়শংকরের বক্তব্যে উঠে এসেছে ‘৪এফ’ সংকট—ফুয়েল (জ্বালানি), ফুড (খাদ্য), ফার্টিলাইজার (সার) এবং ফিনান্স (অর্থ)। তাঁর মতে, এই চারটি ক্ষেত্রের পারস্পরিক প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার উপর চাপ তৈরি করছে।
বিশেষ করে সারের জোগান নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইউক্রেন ও পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সার উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাঘাত তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শস্য রফতানিকারক দেশ থেকে পণ্য পাঠানোও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে কৃষি উৎপাদনে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে ব্যাঘাত তৈরি হওয়ায় তেল, গ্যাস ও সারের আন্তর্জাতিক বাজারে চাপ বেড়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতের ক্ষেত্রেও সার ও জ্বালানির আন্তর্জাতিক সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ। ধান, গম ও ভুট্টার মতো খাদ্যশস্যের পাশাপাশি আখ, আলু, কলা, সবজি ও তুলো চাষেও সারের প্রয়োজন হয়। ইউরিয়া উৎপাদনে প্রাকৃতিক গ্যাস গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, আর ফসফেট ও পটাশের ক্ষেত্রে ভারত আন্তর্জাতিক সরবরাহের উপর নির্ভরশীল।
এর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন ও এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জয়শংকর। আবহাওয়ার পরিবর্তন কৃষি উৎপাদনে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ‘সুপার এল নিনো’ শব্দবন্ধটি অবশ্য কোনও আনুষ্ঠানিক বৈজ্ঞানিক শ্রেণিবিভাগ নয়; এটি অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি বোঝাতে অনানুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহৃত হয়।
রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভার আলোচনাতেও জয়শংকর খাদ্য, জ্বালানি, সার ও অর্থনীতির এই চারটি ক্ষেত্রের পারস্পরিক সংকটের কথা তুলেছিলেন। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল করা এবং জ্বালানি ও সারের জোগান স্বাভাবিক রাখার জন্য দেশগুলির মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।
বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের প্রভাব সরাসরি সংশ্লিষ্ট দেশগুলির বাইরেও ছড়িয়ে পড়ছে—এটাই জয়শংকরের বক্তব্যের অন্যতম মূল বিষয়। খাদ্যশস্য, সার ও জ্বালানির আন্তর্জাতিক সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাঘাত তৈরি হলে তার প্রভাব কৃষি উৎপাদন, বাজারদর এবং খাদ্য নিরাপত্তার উপর পড়তে পারে।