নয়াদিল্লি
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কঠোর শাস্তির বিধান সংবলিত একটি বিলের খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে। বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক ও উদ্বেগের প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালে কেন্দ্র সরকার এ সংক্রান্ত নতুন আইন কার্যকর করেছিল।
২০২৪ সালের জুন মাসে নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের আবহে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু 'পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) অ্যাক্ট, ২০২৪'-এ সম্মতি প্রদান করেন।
এর আগে কেন্দ্র সরকার বা তার অধীনস্থ সংস্থাগুলির আয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পরীক্ষায় সংঘটিত অপরাধমূলক অনিয়মের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ও কঠোর কোনও আইনগত কাঠামো ছিল না। নতুন আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো কেন্দ্রীয় লোকসেবা কমিশন (UPSC), কর্মচারী নির্বাচন কমিশন (SSC), রেলওয়ে নিয়োগ পরীক্ষা, ব্যাংকিং নিয়োগ সংস্থা এবং জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (NTA)-র মতো প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অন্যান্য অসাধু উপায়ের ব্যবহার রোধ করা।
পূর্ববর্তী বিলে এ ধরনের অনিয়মের জন্য ন্যূনতম তিন থেকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িতদের ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে দশ বছরের কারাদণ্ড এবং ন্যূনতম ১০ কোটি টাকা জরিমানার প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বিলে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি পরীক্ষা পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব, মানদণ্ড ও নির্দেশিকা প্রণয়ন, পরীক্ষায় অসদুপায় বা অপরাধের ঘটনা রিপোর্ট করা এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও স্পষ্ট বিধান থাকবে।
জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির আধিকারিকদের অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর আগামী সপ্তাহে সংসদে এই গুরুত্বপূর্ণ বিলটি উত্থাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে, কেন্দ্র সরকার শিক্ষা মন্ত্রকের উচ্চশিক্ষা বিভাগেও বড় প্রশাসনিক রদবদল করেছে। রাজস্থান ক্যাডারের ১৯৯৪ ব্যাচের আইএএস কর্মকর্তা নরেশ পাল গঙ্গওয়ারকে উচ্চশিক্ষা বিভাগের নতুন সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বিনীত যোশীর স্থলাভিষিক্ত হবেন।