নিট বিক্ষোভে সাংবাদিকদের উপর হামলা, ‘গুণ্ডা আইন’-এ কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 13 h ago
নিট বিক্ষোভে সাংবাদিকদের উপর হামলা, ‘গুণ্ডা আইন’-এ কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
নিট বিক্ষোভে সাংবাদিকদের উপর হামলা, ‘গুণ্ডা আইন’-এ কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
 
কলকাতা

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে কলকাতায় বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির মিছিলে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় কড়া অবস্থান নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। শনিবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন, এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সদ্য প্রণীত ‘পশ্চিমবঙ্গ জননিরাপত্তা ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০২৬’, যা ‘গুণ্ডা আইন’ নামে পরিচিত, তার অধীনেই কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
শুক্রবার ধর্মতলায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এবং কথিত নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে বাম ছাত্র সংগঠনগুলির বিক্ষোভ মিছিল চলাকালীন একাধিক সাংবাদিক ও চিত্রসাংবাদিকের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। সেই প্রসঙ্গেই বিধানসভায় বিবৃতি দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক তদন্তে প্রায় ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাদের আন্দোলনের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক ছিল না।
 
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রথমে বিক্ষোভকারীদের একাংশ জুতো ও জলের বোতল ছুড়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করে। পরে তারা সাংবাদিকদের নিশানা বানায়। তাঁর অভিযোগ, পুলিশকে উস্কে দিয়ে লাঠিচার্জ বা কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করানোর চেষ্টা করা হলেও পুলিশ সংযম বজায় রাখায় সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি।
 
তিনি জানান, গণতান্ত্রিক দেশে আইন মেনে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার সকলের রয়েছে। সেই কারণেই পুলিশকে আগে থেকেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না গেলে কোনও বলপ্রয়োগ করা হবে না।
 
কলকাতা পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে এবং অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা ব্যর্থ করেছে।
 
এই ঘটনায় গুরুতর জখম হওয়া ছয়জন সাংবাদিক সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া আরও কয়েকজন সাংবাদিক সামান্য আহত হয়েছেন বলে তিনি জানান।
 
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঘটনায় মোট ছয়টি এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং প্রতিটি মামলাতেই ‘গুণ্ডা আইন’-এর ধারা যুক্ত করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
তদন্তে চিহ্নিত প্রায় ৭০ জনের মধ্যে অনেকেই ছাত্র নন এবং সিপিআই(এম)-এর ছাত্র সংগঠন বা নিট আন্দোলনের সঙ্গেও তাঁদের কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।
 
বিধানসভায় তিনি পাঁচজন অভিযুক্তের নামও প্রকাশ করেন। এঁরা হলেন রাজাবাগানের আফরোজ, খিদিরপুরের নাহিদ, একবালপুরের তানভির ও নিজাম এবং ওয়াটগঞ্জের রাহুল জামাল। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, শুক্রবার ধর্মতলার বিক্ষোভে অশান্তি সৃষ্টিতে এঁদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল।