‘ঠিক হয়েছে, দেহ ছোঁব না ও কর্মফল পেয়েছে!’ বিজেপি সরকারের প্রথম এনকাউন্টারে মৃত ছেলের দেহ নিতে অস্বীকার করলেন ‘সাহসী মা’

Story by  Tarun Nandi | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 18 d ago
‘ঠিক হয়েছে, দেহ ছোঁব না ও কর্মফল পেয়েছে!’ বিজেপি সরকারের প্রথম এনকাউন্টারে মৃত ছেলের দেহ নিতে অস্বীকার করলেন ‘সাহসী মা’
‘ঠিক হয়েছে, দেহ ছোঁব না ও কর্মফল পেয়েছে!’ বিজেপি সরকারের প্রথম এনকাউন্টারে মৃত ছেলের দেহ নিতে অস্বীকার করলেন ‘সাহসী মা’
 
তরুণ নন্দী, কলকাতাঃ

"মেয়েটার সঙ্গে যা করেছে… ওর সঙ্গে যা হয়েছে ঠিক হয়েছে। কর্মের ফল পেয়েছে।" পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছে ছেলের। খবরটা পুলিশ বাড়ি পৌঁছে দিতেই অভিযুক্ত প্রভাসের মা কথাগুলো বলে জানালেন, ছেলের এভাবে মৃত্যুতে কোনও আক্ষেপও নেই তাঁর। বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনায় অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টারের পর মৃতদেহ নিতে অস্বীকার করলেন স্বয়ং তার মা সন্ধ্যা মণ্ডল। পরিষ্কার করে জানিয়ে দিলেন, "ও যা করেছে, তাতে যা হয়েছে ঠিক হয়েছে।"
 
খবরটি সংবাদমাধ্যমে জানার পর অনেকেই বলছেন,পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের আইন-শৃঙ্খলার এক নতুন অধ্যায় যেন দেখল গোটা বাংলা। বারুইপুর কাণ্ডের তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমেই গ্রেপ্তার করেছিল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে। তাকে জেরা করেই জানা যায় অনেক তথ্য। জেরা করার পর উদ্ধার হয়েছিল বস্তাবন্দি হতভাগ্য নাবালিকার দেহ। পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে বারুইপুরের সূর্যপুরের সেই ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল প্রভাসকে। এরপরেই ঘটে যায় অন্য ঘটনা। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনাস্থলে এসেই পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে তাঁদের লক্ষ্য করেই গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করে প্রভাস। আর তরপরই আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালাতে বাধ্য হয় পুলিশ। পুলিশের লক্ষ্যভেদ হতেই অভিযুক্ত প্রভাসকে রক্তাক্ত অবস্থায় বারুইপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপরই প্রভাসকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
 
জানা গেছে, বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ নিয়ম মেনে পুলিশ প্রভাসের বাড়িতে পৌঁছে দেয় মৃত্যুর খবর। কিন্তু প্রভাসের মা যা বললেন তাতে চমকে উঠেছেন অনেকেই।  পুলিশ পরিবারের কাছে জানতে চায়, তাঁরা শেষবারের মতো ছেলেকে দেখতে চান কি না,  উত্তরে মা সন্ধ্যাদেবী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, "আমরা কেউ যাব না। আপনারা যা করার করুন। মেয়েটার সঙ্গে যা করেছে সে তার কর্মের ফল পেয়েছে।" সংবাদমাধ্যমের সামনে সন্ধ্যাদেবী জানান, ছেলে প্রভাস বরাবরই ছিল উশৃঙ্খল প্রকৃতির। কোনওদিনই শুনত না মায়ের কথা। পরিবারের সম্মানের কথা না ভেবে বুঁদ হয়ে থাকত নেশায়। এনকাউন্টারের পরও নিজের গর্ভজাত সন্তানের এমন নৃশংস অপরাধকে আড়াল করার বিন্দুমাত্র চেষ্টা করেননি তিনি। এই কথা শোনার পর সর্বত্র কুর্নিশ জানানো হচ্ছে এই সাহসী মাকে। বলা ভালো, সন্তানের স্নেহে অন্ধ না থেকে নিজের মাতৃত্বের টানকে বিসর্জন দিয়ে ন্যায়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন সন্ধ্যাদেবী।
 
বিজেপি সরকারের আমলে এই প্রথম কোনও এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটল রাজ্যে। যা অপরাধীদের কাছে পৌঁছে গেল কঠিন বার্তা। তবে গোটা সমাজ যেন স্যালুট জানাচ্ছে এই সাহসী মাকে। যিনি বার্তা দিলেন, অপরাধীর কোনও জাত, ধর্ম বা পরিবার হয় না, তার একমাত্র পরিচয় হল সে অপরাধী।