মোদির ২৫ বছরের জনসেবা ও বাংলা ভাষার প্রতি অবদানের স্বীকৃতি, বিশেষ প্রস্তাব পাশ পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার
কলকাতা:
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনসেবার ২৫ বছর পূর্তি এবং বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি তাঁর অবদানকে স্বীকৃতি জানিয়ে বুধবার বিশেষ প্রস্তাব পাশ করল পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পৌরোহিত্যে আয়োজিত বিশেষ মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রস্তাব গৃহীত হয়।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্প, পরিকাঠামো ও আধুনিকীকরণের পাশাপাশি দরিদ্র মানুষের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন উদ্যোগকেও এই প্রস্তাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য সচিবালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আমরা সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছি। প্রস্তাবটি বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় মুদ্রিত করে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হবে।”
বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, নরেন্দ্র মোদি সরকার বাংলা ভাষাকে তার প্রাপ্য মর্যাদা দিয়েছে। ২০২৪ সালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা বাংলা ভাষাকে ধ্রুপদি ভাষার মর্যাদা দেওয়ার অনুমোদন দেয়। একই সঙ্গে মারাঠি, পালি, অসমিয়া ও প্রাকৃত ভাষাকেও এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
এ ছাড়া বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বন্দে মাতরম্’-এর প্রচার, শান্তিনিকেতনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং দুর্গাপুজোর ইউনেস্কোর স্বীকৃতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী।
জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম্’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উদ্যাপন এবং সংসদে এই জাতীয় গীত নিয়ে বিশেষ আলোচনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বন্দে মাতরম্-কে দেশের সর্বোচ্চ মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, নয়াদিল্লির কর্তব্যপথে স্বাধীনতা সংগ্রামীর মূর্তি স্থাপন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির বেলুড় মঠ সফরের কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
পদ্ম পুরস্কারকে তৃণমূল স্তরে পৌঁছে দেওয়ার জন্যও প্রধানমন্ত্রীকে কৃতিত্ব দেন তিনি। তাঁর দাবি, বাংলার শিল্পী, লেখক ও লোকশিল্পীরা জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি পেয়েছেন।
পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর অবদানের প্রশংসা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ, গুজরাত এবং ভারতের অগ্রগতিতে অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমি শ্রদ্ধা জানাই।”
একই সঙ্গে পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, আগের রাজ্য সরকার কেন্দ্রের একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা দিয়েছিল। তা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী মোদি পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছেন বলে দাবি করেন তিনি।