প্রধানমন্ত্রী মোদীর জনসেবার যাত্রাকে স্মরণীয় করে রাখতে ত্রিপুরার ৮টি স্থানের নাম হতে চলেছে ‘সেবা জ্যোতি চক’

Story by  Nurul Haque | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 14 h ago
প্রধানমন্ত্রী মোদীর জনসেবার যাত্রাকে স্মরণীয় করে রাখতে ত্রিপুরার ৮টি স্থানের নাম হতে চলেছে ‘সেবা জ্যোতি চক’
প্রধানমন্ত্রী মোদীর জনসেবার যাত্রাকে স্মরণীয় করে রাখতে ত্রিপুরার ৮টি স্থানের নাম হতে চলেছে ‘সেবা জ্যোতি চক’

নূরুল হক, আগরতলা:

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ২৫ বছরের জনসেবার যাত্রাকে সম্মান জানিয়ে রাজ্য মন্ত্রিসভায় সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২৫ বছর সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর জনসেবাকে শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছে মন্ত্রিসভা। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রীর জনসেবার আদর্শকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজ্যের আটটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ‘সেবা জ্যোতি চক’ স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার মহাকরণে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রগঠন, সুশাসন, জাতীয় নিরাপত্তা, জনকল্যাণ এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের মর্যাদা বৃদ্ধিতে প্রধানমন্ত্রীর অবদানকে স্বীকৃতি জানাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ত্রিপুরার ৪০ লক্ষেরও বেশি মানুষের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আত্মনির্ভর ভারত’ এবং ‘বিকশিত ত্রিপুরা’ গড়ার লক্ষ্যে রাজ্য সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
 
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্র প্রথম’ এবং ‘নাগরিক প্রথম’ নীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রশাসনকে জনমুখী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ নীতির মাধ্যমে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের উন্নয়ন, জনঅংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং সুশাসনের ভিত মজবুত করার প্রচেষ্টাকেও মন্ত্রিসভা স্বীকৃতি দিয়েছে।
 
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গৃহীত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী ৩৭০ ধারা বিলোপ, ‘ওয়ান র‍্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন’ চালু, চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ পদ সৃষ্টি, শ্রম আইন সংস্কার এবং ঔপনিবেশিক আমলের ফৌজদারি আইনের পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন। জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ২০১৬ সালের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, ২০১৯ সালের বালাকোট বিমান হামলা এবং ২০২৫ সালের মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
 
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ২০২৩ সালে জি-২০ সম্মেলনের সফল আয়োজন, ব্রিকসে ভারতের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে ত্রিপুরার যোগাযোগ ব্যবস্থা, পরিকাঠামো ও নাগরিক পরিষেবার ক্ষেত্রে অগ্রগতির বিষয়টিও সাংবাদিক সম্মেলনে তুলে ধরা হয়।
 
রাজ্যের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী আগরতলা সিটি ওয়েস্ট বাইপাসের কাজ শুরু এবং আগরতলা-চোরাইবাড়ি ও আগরতলা-উদয়পুর করিডোর চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানান। এই প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নে জমি অধিগ্রহণ, বিভিন্ন পরিষেবার পরিকাঠামো স্থানান্তর এবং বনদপ্তরের ছাড়পত্রের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার সহযোগিতা করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
 
রেল যোগাযোগের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, উদয়পুর-আগরতলা-সাব্রুম রেল করিডোর সম্পূর্ণ বিদ্যুতায়িত হয়েছে। অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের অধীনে ১৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ধর্মনগর, কুমারঘাট, উদয়পুর ও আগরতলা রেলস্টেশনের আধুনিকীকরণের কাজ চলছে। যাত্রীদের জন্য উন্নত প্রতীক্ষালয়, প্রবীণ নাগরিকদের সুবিধা এবং ডিজিটাল তথ্য প্রদর্শন ব্যবস্থার মতো পরিষেবা গড়ে তোলা হচ্ছে। চন্দ্রনাথপুর থেকে সাব্রুম পর্যন্ত ২৬৩ কিলোমিটার রেললাইন দ্বিগুণ করার সমীক্ষার কাজও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি।
 
এছাড়া, আগরতলা বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করে মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দর রাখা, আগরতলা স্মার্ট সিটি মিশনের অধীনে আধুনিক সড়ক, ফুটপাত, ভূগর্ভস্থ নিকাশি ব্যবস্থা, নদী ও জলাশয় পুনরুজ্জীবন এবং এলইডি পথবাতি স্থাপনের মতো উন্নয়নমূলক উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে একটি আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।
 
মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের আটটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ‘সেবা জ্যোতি চক’ স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে জনসেবা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নাগরিক অংশগ্রহণের বার্তা সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।অনুমোদিত স্থানগুলির মধ্যে রয়েছে পশ্চিম ত্রিপুরায় রানীরপুকুর সংলগ্ন জংশন, সোনারতরী স্টেট গেস্ট হাউস এবং শহীদ ভগৎ সিং যুব আবাসন এলাকা। উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগরে ডিএনবি প্লেগ্রাউন্ডের ট্রাই-জংশন, ঊনকোটি জেলার কৈলাশহরের শ্রীরামপুর ব্রিজ চৌমুহনী, ধলাই জেলার আমবাসা টাউন হল সংলগ্ন এলাকা, খোয়াই জেলার মহাদেব টিলার নিকটবর্তী স্থান এবং সিপাহীজলা জেলার বিশ্রামগঞ্জ মোটর স্ট্যান্ড সংলগ্ন জংশনও এই তালিকায় রয়েছে।
 
এছাড়া, গোমতী জেলার উদয়পুরে জগন্নাথ দীঘির কোণে জানতলা ক্রসিং এবং দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার বিলোনিয়ায় কৃষি উপ-অধিকর্তার কার্যালয়ের নিকটবর্তী স্থানও প্রস্তাবিত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।মুখ্যমন্ত্রীর মতে, ‘সেবা জ্যোতি চক’গুলি কেবল স্মারক হিসেবে নয়, জনসচেতনতা ও সামাজিক অংশগ্রহণের কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করবে। পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বৃক্ষরোপণ, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ এবং সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্প সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সমাজের প্রান্তিক মানুষের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ সহায়ক হবে।
 
এই উদ্যোগ গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে সামাজিক মেলবন্ধন আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়নে নাগরিকদের সম্মিলিত দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।


শেহতীয়া খবৰ