গির্জার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর! আক্রান্ত যাজক ও ভক্তরা, আহত একাধিক

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 1 d ago
গির্জার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর! আক্রান্ত যাজক ও ভক্তরা, আহত একাধিক
গির্জার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর! আক্রান্ত যাজক ও ভক্তরা, আহত একাধিক

কলকাতা:

পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় গির্জার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান চলাকালীন হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল একদল ব্যক্তির বিরুদ্ধে। হামলায় আক্রান্ত হয়েছেন একাধিক যাজক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভক্তরা। আহত হয়েছেন কয়েকজন। শনিবার বাসন্তী থানার অন্তর্গত নারায়ণতলায় এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গির্জার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী, কয়েকজন যাজক এবং বহু ভক্ত। অভিযোগ, সেই সময় ৩০-৩৫ জনের একটি দল গির্জা চত্বরে ঢুকে উপস্থিত ব্যক্তিদের উপর হামলা চালায়। মহিলাদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকী, তাঁদের হাতের শাঁখা খুলে ফেলতে বলে জোর করে গির্জা চত্বর থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই ঘটনায় অভিযোগ জমা পড়েছে। হামলাকারীরা গির্জার ক্রস ভাঙচুর করে এবং যাজক ও ভক্তদের মারধর করে বলে অভিযোগ। ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করার চেষ্টা করলে কয়েকজনের মোবাইল ফোনও ভেঙে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। গির্জা চত্বরে ধর্মীয় কার্যকলাপ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন গির্জার সদস্যরা।

ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এদিকে, এই হামলার নিন্দা করেছে খ্রিস্টান সংগঠন বঙ্গীয় খ্রিস্টীয় পরিষেবা (বিসিপি)। সংগঠনটির অভিযোগ, এই হামলা সংখ্যালঘু খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে চালানো হয়েছে।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা রাজ্য সম্পাদক তথা কার্যকরী সভাপতি হেরোড মল্লিক বলেন, বিশপের উপস্থিতিতে গির্জার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একাধিক যাজককে মারধরের ঘটনা নজিরবিহীন। তাঁর অভিযোগ, সংগঠিত কিছু গোষ্ঠী আইন নিজেদের হাতে তুলে নিয়ে শান্তিপূর্ণ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর আক্রমণ চালাচ্ছে। প্রশাসন ও সরকারের তরফে কার্যকর পদক্ষেপের অভাবেই হামলাকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলেও দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, এর কয়েক সপ্তাহ আগেও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় তিনটি খ্রিস্টান পরিবার পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিল, ধর্মীয় বিশ্বাস ত্যাগ করতে চাপ দিয়ে তাঁদের মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। প্রায় ১৮ মাস আগে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করা ওই পরিবারগুলির অভিযোগ, তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কিছু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানেও অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছিল।



শেহতীয়া খবৰ