চণ্ডীগড়:
শিখ ধর্মীয় সর্বোচ্চ আসন অকাল তখত তাঁর বিরুদ্ধে ‘গুরু দোখি’ (গুরুবিরোধী) এবং ‘খালসা পন্থ বিরোধী’ আখ্যা দেওয়ার একদিন পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানালেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান। তিনি দাবি করেছেন, যে ভিডিওকে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, সেটিতে থাকা ব্যক্তি তিনি নন এবং তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে।
মঙ্গলবার এক ভিডিও বার্তায় ভগবন্ত মান বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যক্তিরা তাঁদের "রাজনৈতিক প্রভুদের ইশারায়" তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।তিনি বলেন,"যে ভিডিও দেখিয়ে আমার বিরুদ্ধে হুকুমনামা জারি করা হয়েছে, আমি সেটি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। আগেও অকাল তখতে হাজির হয়ে বলেছিলাম, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি আমি নই। তাঁর উচ্চতা ও শারীরিক গঠন আমার সঙ্গে মেলে না।"
এই বিতর্কের সূত্রপাত চলতি বছরের জানুয়ারিতে। অভিযোগ ওঠে, ভগবন্ত মান ‘গুরু কি গোলক’ (গুরদুয়ারার দানবাক্স) নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন এবং একটি ভিডিওতে শিখ গুরুদের ছবি ও নিহত জঙ্গি নেতা জারনাইল সিং ভিন্দ্রানওয়ালের ছবি ব্যবহার করে আপত্তিকর কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। সেই অভিযোগে তাঁকে অকাল তখতে তলব করা হয়েছিল।
সোমবার অমৃতসরে অকাল তখতের জাঠেদার গিয়ানি কুলদীপ সিং গারগজ্জ ঘোষণা করেন যে, ফরেনসিক পরীক্ষায় ভাইরাল ভিডিওটি "অকৃত্রিম ও সত্য" বলে প্রমাণিত হয়েছে। তাঁর দাবি, দুটি পৃথক ফরেনসিক পরীক্ষাগারে দেখা গেছে ভিডিওটি সম্পাদিত নয় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়নি।
তবে মুখ্যমন্ত্রী মান সেই দাবি খারিজ করে বলেন,"আমি জল, গুরবানি, কৃষক ও যুবসমাজের স্বার্থে যেসব সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, তা অনেকেই সহ্য করতে পারছেন না। তাই ধর্মকে ব্যবহার করে আমাকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা চলছে।"
তিনি আরও বলেন, তিনি অকাল তখতকে শিখ সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে সম্মান করেন এবং তার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে একই সঙ্গে অকাল তখতের জাঠেদার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।ভগবন্ত মানের ভাষায়,"সেখানে কীভাবে রাজনৈতিক নিয়োগ হয়েছে এবং কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তা শিখ সঙ্গত খুব ভালোভাবেই জানে।"
অন্যদিকে, অকাল তখতের পক্ষ থেকে শুধু ভগবন্ত মান নন, পাঞ্জাবের সব দলের শিখ বিধায়ক এবং পাঞ্জাব মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও আগামী ২৯ জুন অকাল তখতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে প্রস্তাবিত অপবিত্রতা-বিরোধী আইন (Anti-Sacrilege Law) নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবেই এই তলব করা হয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে পাঞ্জাবে নতুন করে ধর্ম ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে অকাল তখত দাবি করছে, শিখ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের বিরুদ্ধে তারা কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের অভিযোগ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা চলছে।
ফলে ভিডিওটির সত্যতা, ফরেনসিক রিপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক ভূমিকা—সব মিলিয়ে পাঞ্জাবের রাজনীতিতে এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।