গুয়াহাটি:
আয়-বহির্ভূত সম্পত্তি (Disproportionate Assets) মামলায় অসমের এক অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস আধিকারিকের ৫৩.২৮ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি অস্থায়ীভাবে বাজেয়াপ্ত (অ্যাটাচ) করার নির্দেশ দিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। শনিবার এক সরকারি বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অসম পুলিশ সার্ভিস (APS) থেকে পদোন্নতি পেয়ে আইপিএস হওয়া প্রশান্ত কুমার দত্ত, যিনি ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) পদ থেকে অবসর নিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ৭৯.০১ কোটি টাকার আয়-বহির্ভূত সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
ইডির গুয়াহাটি জোনাল অফিস মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন (PMLA), ২০০২-এর আওতায় একটি প্রভিশনাল অ্যাটাচমেন্ট অর্ডার জারি করে। এর মাধ্যমে প্রশান্ত কুমার দত্ত, তাঁর পরিবারের সদস্য এবং তাঁদের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন সংস্থার নামে থাকা মোট ৫৩.২৮ কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি অস্থায়ীভাবে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
এই তদন্তের সূত্রপাত হয় অসম পুলিশের ভিজিল্যান্স অ্যান্ড অ্যান্টি-করাপশন শাখা কর্তৃক দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৮৮-এর অধীনে দায়ের করা একটি এফআইআরের ভিত্তিতে।
এফআইআর অনুযায়ী, ১৯৯২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত চাকরিজীবনে প্রশান্ত কুমার দত্ত তাঁর পরিচিত আয়ের উৎসের তুলনায় বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি সংগ্রহ করেন।
তদন্তে দেখা যায়, দত্ত এবং তাঁর স্ত্রীর ঘোষিত মোট আয় ছিল প্রায় ৭.২৩ কোটি টাকা, আর ঘোষিত ব্যয় ছিল ৯.০৪ কোটি টাকা। অথচ তাঁদের নামে ৭৭.২১ কোটি টাকার অঘোষিত সম্পত্তি চিহ্নিত হয়েছে। নথিপত্রের ভিত্তিতে ইডি তাঁদের মোট ৭৯.০১ কোটি টাকার আয়-বহির্ভূত সম্পত্তি থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ইডির তদন্তে আরও উঠে এসেছে, এই অবৈধ অর্থ মহামায়া এস্টেটস প্রাইভেট লিমিটেড, ঈশান কমার্শিয়াল প্রাইভেট লিমিটেড এবং মুরারি কমোডিটিজ প্রাইভেট লিমিটেড নামে তিনটি ঘনিষ্ঠভাবে নিয়ন্ত্রিত সংস্থার মাধ্যমে বৈধ সম্পত্তি হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়। তদন্তে দেখা যায়, সংস্থাগুলির নথিভুক্ত অফিসের বাস্তবে কোনও অস্তিত্ব নেই।
তদন্তে আরও প্রকাশ, পরিবার ও এই সংস্থাগুলির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৪ কোটি ৭৪ লক্ষ ৯৯ হাজার ৯১ টাকা অজ্ঞাত উৎস থেকে নগদ জমা করা হয়। এরপর কলকাতাভিত্তিক একাধিক শেল কোম্পানি, ভুয়ো শেয়ারহোল্ডার এবং বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থ ঘুরিয়ে (Layering) শেষ পর্যন্ত তা গুয়াহাটির হোটেল ও মুম্বইয়ের ফ্ল্যাটে বিনিয়োগ করা হয়।
ইডির দাবি, তিনটি সংস্থার অধিকাংশ শেয়ারহোল্ডারই ছিলেন নামধারী বা ভুয়ো ব্যক্তি, যাঁদের নিজস্ব আয়ের কোনও নির্ভরযোগ্য উৎস ছিল না। তাঁরা সংস্থায় বিনিয়োগ করা অর্থের উৎস সম্পর্কেও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
বর্তমানে বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে গুয়াহাটির চারটি হোটেল এবং মুম্বইয়ের দুটি আবাসিক ফ্ল্যাট।ইডি জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনও চলছে।