নূরুল হক / আগরতলা
জন্মদিন মানেই কেক কাটা, আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান কিংবা বন্ধু-পরিজনের সঙ্গে আনন্দ উদযাপন। তবে সেই প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে নিজের জন্মদিনকে মানবসেবার দিন হিসেবে বেছে নিলেন ত্রিপুরার সুপরিচিত মেকআপ আর্টিস্ট লিপা হাসান। আগরতলার মসজিদপট্টি এলাকার লিপা হাসান আন্তর্জাতিক মানের মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে পরিচিত। তিনি ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যে নিজের কৃতিত্বের মধ্য দিয়ে সুনাম অর্জন করার পাশাপাশি বাংলাদেশ এবং থাইল্যান্ডে নিজেদের প্রতিভার সফল অভিযান করেছেন।
ত্রিপুরার আগরতলার মুসলিম পরিবারের এই মেয়ে নিজের রূপচর্চা এবং কর্মদক্ষতার মধ্যে দিয়ে রাজ্যের স্বাবলম্বী মহিলাদের মধ্যে একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। কঠিন সংগ্রাম এবং অনেক প্রতিফলতার মধ্য দিয়ে তিনি কর্মকে আগলে ধরে আজকে একজন সফল নারীর পরিচয় হয়ে উঠেছেন।
লিপা হাসান
লিপা হাসান প্রতিকূল পরিস্থিতি কাটিয়ে সাফল্য অর্জন করে রাজ্যের মহিলাদের স্বাবলম্বী হওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ প্রদর্শক। আন্তর্জাতিক স্তরে একাধিক মেকআপ আর্টিস্ট প্রতিযোগিতা এবং প্রশিক্ষণে তিনি নিজের কৃতিত্ব তুলে ধরেন এবং বিভিন্ন পুরস্কার ভূষিত হন।
রাজ্যের একাধিক মন্ত্রীর পরিবারের মহিলা সদস্যদের থেকে শুরু করে সমস্ত নামি ব্যক্তিত্বের পরিবারের কাছে মেকাপের জন্য প্রথম পছন্দ লিপা হাসান এবং আগরতলা আইতরমা মল স্থিত তার রাজশ্রী স্কিন হেয়ার এন্ড মেকআপ একাডেমি।
২১ জুন ২০২৬ তারিখে ছিলো লিপা হাসানের জন্মদিন। জন্মদিন উপলক্ষে টানা তিন দিন তিনি বিভিন্ন ধরনের মানবিক এবং সামাজিক কর্মসূচি পালন করেন। জন্মদিন উপলক্ষে তিনি সর্বমঙ্গলা বৃদ্ধাশ্রমে গিয়ে প্রবীণ মায়েদের সঙ্গে জন্মদিনের কেক কাটেন এবং তাঁদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটান। শুধু তাই নয়, তাঁদের হাতে খাবার তুলে দিয়ে ভালোবাসা ও সম্মানের বার্তাও পৌঁছে দেন। এর পাশাপাশি পথশিশুদের মধ্যেও খাবার বিতরণ করেন তিনি। অবলা প্রাণীদের প্রতিও নিজের ভালোবাসার প্রকাশ ঘটিয়ে তাদের খাবারের ব্যবস্থাও করেন।
অভিনেতা দেবের সঙ্গে লিপা হাসানের একটি ছবি
লিপা হাসানের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই তাঁর এই মানবিক উদ্যোগকে অনুকরণীয় বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁদের মতে, ব্যক্তিগত আনন্দকে সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই প্রকৃত উদযাপনের সৌন্দর্য নিহিত। নিজের জন্মদিনকে সমাজসেবার মাধ্যমে স্মরণীয় করে রেখে লিপা হাসান প্রমাণ করলেন, সৌন্দর্য শুধু বাহ্যিক রূপে নয়, মানুষের মানবিকতা ও সহমর্মিতার মধ্যেও প্রকাশ।