প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে আলোর পথে: অধ্যাপনা, গবেষণা ও সমাজসেবার নাম আমিনা পারভিন

Story by  Sampee Chakroborty Purkayastha | Posted by  Aparna Das • 14 h ago
আমিনা পারভিন
আমিনা পারভিন
 
শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ 

সমাজের নানা রক্ষণশীলতা, কুসংস্কার এবং নারীদের ঘিরে তৈরি হওয়া অসংখ্য সীমাবদ্ধতার মাঝেও কিছু নারী নিজের মেধা, অধ্যবসায় এবং কর্মদক্ষতায় গড়ে তোলেন সাফল্যের অনন্য ইতিহাস। পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গের এমনই এক অনুপ্রেরণার নাম অধ্যাপিকা আমিনা পারভিন। একজন মুসলিম নারী হিসেবে তিনি শুধু নিজের স্বপ্নকেই বাস্তবে রূপ দেননি, বরং শিক্ষার আলো ছড়িয়ে অসংখ্য ছাত্রছাত্রীর জীবনেও আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে চলেছেন।
 
বর্তমানে তিনি জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি গার্লস কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। দীর্ঘদিনের অধ্যবসায়, জ্ঞানচর্চা এবং গবেষণার মধ্য দিয়ে তিনি এই সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছেছেন। তাঁর জীবনকাহিনি প্রমাণ করে যে, নারীর ক্ষমতায়নের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা।
 
আমিনা পারভিন
 
শিক্ষকতা শুধু তাঁর পেশা নয়, এটি তাঁর নেশা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ। এর আগে তিনি হলদিয়া ল' কলেজে অতিথি শিক্ষক হিসেবেও কাজ করেছেন। রাজনৈতিক বিজ্ঞান, সমাজ, শিক্ষা ও বিশ্বশান্তি নিয়ে তাঁর গভীর চিন্তাভাবনা গবেষণা ও লেখালেখির মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। "Intellectual Terrorism: A Threat to Educational System & World Peace" এবং "Islam & Jihad: Illusion & Reality"-এর মতো বিষয় নিয়ে তাঁর গবেষণা ও প্রকাশনা তাঁকে একজন মননশীল শিক্ষাবিদ হিসেবে বিশেষ পরিচিতি দিয়েছে।
 
একবিংশ শতাব্দীতে শিক্ষা যে শুধু শ্রেণিকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তা ভালোভাবেই উপলব্ধি করেছেন আমিনা পারভিন। তাই তিনি ডিজিটাল মাধ্যমেও শিক্ষার প্রসারে কাজ করছেন। "Professors Club" নামের শিক্ষামূলক ইউটিউব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তিনি ছাত্রছাত্রীদের কাছে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অন্যান্য বিষয় সহজভাবে তুলে ধরছেন। এর ফলে বহু শিক্ষার্থী তাঁর কাছ থেকে অনলাইনে উপকৃত হচ্ছে।
 
তবে আমিনা পারভিনের পরিচয় কেবল একজন অধ্যাপক বা গবেষক হিসেবেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি সমাজসেবাতেও সমানভাবে সক্রিয়। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নারীশিক্ষার প্রসারে কাজ করে চলেছেন। বর্তমানে তিনি তাঁর কলেজের ন্যাশনাল সার্ভিস স্কিম (NSS)-এর প্রোগ্রাম অফিসার হিসেবে ছাত্রছাত্রীদের সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
 
একজন মুসলিম নারী হিসেবে তাঁর এই সাফল্য নিঃসন্দেহে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, তিনি প্রমাণ করেছেন যে শিক্ষা, আত্মবিশ্বাস এবং কঠোর পরিশ্রম থাকলে কোনও সামাজিক বাধাই সাফল্যের পথে অন্তরায় হতে পারে না। তাঁর অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি সমগ্র নারীসমাজের জন্য এক অনুপ্রেরণার বার্তা।
 
আজকের প্রজন্মের মেয়েদের কাছে আমিনা পারভিন একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, স্বপ্ন দেখার সাহস থাকলে এবং সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য নিরলস পরিশ্রম করলে একজন নারী সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজের স্বাক্ষর রাখতে পারেন। তাঁর এই পথচলা আগামী দিনের অসংখ্য মুসলিম কন্যা ও নারীকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগাবে, এটাই প্রত্যাশা।