ড. বিধানচন্দ্র রায়ের স্মৃতি রক্ষায় উদ্যোগের দাবি, ঐতিহ্যবাহী দুই বাড়ি সংরক্ষণের ভাবনা মেঘালয় রাজভবনে
শিলং
মেঘালয়ের রাজ্যপাল সি এইচ বিজয়শঙ্কর রাজ্যের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রখ্যাত রাষ্ট্রনায়ক ড. বিধানচন্দ্র রায়ের স্মৃতিবিজড়িত দুটি বাড়ি সংরক্ষণের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার জন্য রাজ্য সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছেন।
শিলংয়ের লাবান এলাকায় এবং সচিবালয়ের নিকটবর্তী ড. রায়ের ঐতিহ্যবাহী দুটি বাড়ি সংরক্ষণের দাবিতে মালবিকা বিশারদ রাজ্যপালের কাছে হস্তক্ষেপের আবেদন জানান। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতেই রাজ্যপাল বিষয়টি সরকারের নজরে আনেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দেন।
লোক ভবন থেকে শিল্প ও সংস্কৃতি দফতরে পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, “মাননীয় রাজ্যপাল নির্দেশ দিয়েছেন যে, উত্থাপিত প্রস্তাবটি যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এর যৌক্তিকতা পরীক্ষা করা হোক এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। একই সঙ্গে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে রাজভবনকে অবহিত করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
ড. বিধানচন্দ্র রায় শুধু পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীই নন, তিনি ছিলেন একজন খ্যাতনামা চিকিৎসক, সমাজসেবী এবং স্বাধীনতা-উত্তর ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী জননেতা। শিলংয়ে তাঁর স্মৃতিবহনকারী এই বাড়িগুলি সংরক্ষিত হলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
উল্লেখ্য, রাজ্যপালের কাছে আবেদন জানানোর আগে মালবিকা বিশারদ বিষয়টি নিয়ে পূর্ব খাসি হিলস জেলার ডেপুটি কমিশনারের কাছেও একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছিলেন। তাঁর মতে, ড. বিধানচন্দ্র রায়ের স্মৃতিবিজড়িত এই দুটি বাড়ি কেবল স্থাপত্যগত দিক থেকেই নয়, ইতিহাস ও জনজীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
তাই এগুলিকে সংরক্ষিত ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি। রাজ্যপালের হস্তক্ষেপের পর বিষয়টি নতুন গুরুত্ব পেয়েছে এবং এখন এই ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজ্য সরকারের পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।