বাংলার রাজ্যপাল হিসেবে তিন বছর পূর্তি, ক্যানভাসে রং তুলিতে ছবি আঁকলেন: আবেগাপ্লুত সি ভি আনন্দ বোস

Story by  Sampee Chakroborty Purkayastha | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 5 d ago
বাংলার রাজ্যপাল হিসেবে তিন বছর পূর্তি,  ক্যানভাসে রং তুলিতে ছবি আঁকলেন: আবেগাপ্লুত সি ভি আনন্দ বোস
বাংলার রাজ্যপাল হিসেবে তিন বছর পূর্তি, ক্যানভাসে রং তুলিতে ছবি আঁকলেন: আবেগাপ্লুত সি ভি আনন্দ বোস
 
শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ 

বাংলার সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে তিন বছর পূর্ণ করলেন রাজ্যপাল ড. সি ভি আনন্দ বোস। এই উপলক্ষকে ঘিরে রবিবার সকাল থেকেই জমজমাট রাজভবন। আগেই জানা গিয়েছিল যে দিনটি উদযাপনের বিশেষ পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিশ্রুতি নবায়ন, অতীতের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া এবং নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ— তিন বছর পূর্তিতে যেন সবই মিলেমিশে গেল এক আবেগঘন পরিবেশে।

ভোর থেকেই রাজভবনের পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর। নবীন প্রজন্মের সঙ্গে যোগব্যায়ামে অংশ নেন রাজ্যপাল। কিছু সময় শরীরচর্চায় কাটানোর পর রাজভবনের লনে ক্যানভাসে ছবি আঁকেন তিনি। সেখানেই প্রতীকী ভাবে ‘৩’ সংখ্যা লিখে নিজের দায়িত্বপালনের তিন বছর পূর্তি উদযাপন করেন। এরপর প্রেস কর্নারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন রাজ্যপাল। কণ্ঠে স্পষ্টই শোনা যায় তাঁর অনুভূতির রেশ।

রাজ্যপালের কথায়, “আজ পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে আমি চতুর্থ বছরে পা রাখলাম। এটা আমার কাছে অত্যন্ত সন্তোষজনক একটি যাত্রা। বাংলার মানুষকে আমি হৃদয় থেকে ভালোবেসেছি, তাঁদের কাছ থেকেও অফুরন্ত ভালোবাসা পেয়েছি। রাজভবনের দরজা সকলের জন্য খোলা— সমাজের ছোট-বড় সকলের কল্যাণেই কাজ করে যেতে চাই। যেখানে যতদিন থাকব, গ্রামবাংলায় আরও বেশি সময় কাটাতে চাই, বাংলাকে আরও গভীরভাবে জানতে চাই।”

তবে শুধু মধুর স্মৃতিতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি তিনি। সাম্প্রতিক অতীতে রাজ্য সরকার ও রাজভবনের মধ্যে তৈরি হওয়া মতানৈক্য নিয়েও বলতে ছাড়েননি। গত কয়েক মাস ধরেই বিভিন্ন বিলের অনুমোদন বিলম্বিত হওয়া, রাজনৈতিক অশান্তি ইস্যুতে শাসকদলকে নিশানা করা— এমন নানা কারণে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন তিনি। এদিন নিজের বক্তব্যে সেই পর্যায় প্রসঙ্গে বলেন, “রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমার সম্পর্কে ওঠা-পড়া ছিল ঠিকই, তবে আমি মনে করি এগুলো কাজেরই স্বাভাবিক অংশ।”

রাজ্যপালের তিন বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে তাই ছিল একদিকে উদযাপনের আমেজ, অন্যদিকে দায়িত্বের প্রতিশ্রুতি। রাজনৈতিক মতানৈক্যের স্বীকারোক্তির পাশাপাশি বাংলার প্রতি তাঁর অনুরাগ, মানুষের প্রতি ভালবাসা ও ভবিষ্যতে গ্রামবাংলার সঙ্গে আরও নিবিড় যোগাযোগ গড়ে তোলার প্রত্যয়— সব মিলিয়ে দিনটি হয়ে উঠল তাৎপর্যপূর্ণ।