কলকাতা:
তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া তিনটি ফৌজদারি মামলায় আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও জোরপূর্বক পদক্ষেপ না করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত জানিয়েছে, এই মামলাগুলিতে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন নেই।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দিয়েছেন, তদন্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সহযোগিতা করতে হবে এবং তদন্তকারীদের দেওয়া নোটিস মেনে হাজিরা দিতে হবে। কোনও হাজিরার প্রয়োজন হলে তাঁকে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিস দিতে হবে পুলিশকে।
তবে হাইকোর্টের অনুমতি ছাড়া অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিদেশ যেতে পারবেন না বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করেছে, চিকিৎসার কারণে তিন সপ্তাহের জন্য বিদেশ যাওয়ার যে অনুমতি সুপ্রিম কোর্ট গত ১০ আগস্ট তাঁকে দিয়েছিল, এই নির্দেশের ফলে তা কোনওভাবেই খর্ব হবে না।
আদালত জানিয়েছে, আগামী ২৩ নভেম্বর মামলাগুলি ফের শুনানির জন্য উঠবে। সেই সময় তিনটি মামলার তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট জমা দিতে হবে পুলিশকে।
বিচারপতি ভট্টাচার্য আরও জানান, অভিষেক তদন্তে সহযোগিতা না করলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষ এই নির্দেশ পরিবর্তন বা প্রত্যাহারের আবেদন করতে পারবে।
অভিষেকের আইনজীবী আদালতে জানান, চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশ যাওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি থাকলেও এখনও তিনি বিদেশে যাননি। চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানানো হয়। পাশাপাশি একটি বেসরকারি ব্যাঙ্ক তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ফ্রিজ করে রেখেছে বলেও আদালতে দাবি করা হয়।
রাজ্যের আইনজীবী অবশ্য জানান, সুপ্রিম কোর্টের বিদেশযাত্রার অনুমতি শুধুমাত্র সেখানে বিচারাধীন নির্দিষ্ট আবেদনের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
তবে হাইকোর্ট স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১০ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া চিকিৎসাজনিত বিদেশযাত্রার অধিকার এই আদালতের নির্দেশের কারণে কোনওভাবেই বাধাগ্রস্ত হবে না, তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত শর্তগুলি মেনে চলতে হবে।
অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল হাইকোর্টের এই নির্দেশের কার্যকারিতা স্থগিত রাখার আবেদন জানালেও আদালত তা খারিজ করে দিয়েছে।
এর আগে গত ৩০ জুনও কলকাতা হাইকোর্ট ভবানীপুর, বিষ্ণুপুর এবং কালীতলা থানায় দায়ের হওয়া তিনটি এফআইআরের ভিত্তিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জোরপূর্বক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিয়েছিল।