বিধানসভা ভোটের আগে রবিবার থেকে বাংলাজুড়ে বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 1 d ago
বিধানসভা ভোটের আগে রবিবার থেকে বাংলাজুড়ে বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’
বিধানসভা ভোটের আগে রবিবার থেকে বাংলাজুড়ে বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’
 
কলকাতা:
 
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)-র বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ তীব্র করা এবং তৃণমূল স্তরের সংগঠনকে পরীক্ষা করতে রবিবার থেকে সারা পশ্চিমবঙ্গে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শুরু করতে চলেছে বিজেপি।

রাজ্যে বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশের একদিন পরই এই কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় গত বছরের নভেম্বর থেকে শুরু করে প্রায় ৬৩.৬৬ লক্ষ নাম—অর্থাৎ মোট ভোটারের প্রায় ৮.৩ শতাংশ—ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এর ফলে রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭.০৪ কোটির কিছু বেশি।

দলীয় এক নেতা জানান, প্রায় ৫,০০০ কিলোমিটারব্যাপী এই প্রচার কর্মসূচি একদিকে যেমন গণসংযোগ অভিযান, তেমনই বুথস্তরের সংগঠনকে রাস্তায় দৃশ্যমান শক্তিতে রূপান্তর করার একটি সাংগঠনিক পরীক্ষা।

নয়টি যাত্রা শুরু হবে কোচবিহার, কৃষ্ণনগর, কুলটি, গড়বেতা, রায়দিঘি, ইসলামপুর, হাসনাবাদ, সন্দেশখালি এবং আমতা থেকে। এগুলো রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্র অতিক্রম করে শেষ হবে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এক সমাবেশের মাধ্যমে। ওই সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাষণ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

‘পরিবর্তন যাত্রা’র মাধ্যমে বিজেপি সরাসরি ১ থেকে ১.৫ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়েছে। এক জ্যেষ্ঠ রাজ্য বিজেপি নেতা বলেন, “আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এটি বিজেপির জন্য গেম চেঞ্জার হবে।”

রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই যাত্রাকে “বাংলায় গণতান্ত্রিক সংশোধনের পরবর্তী অধ্যায়” বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “৩৪ বছর বাম শাসনের পর মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছিল। ১৫ বছর পরে আবারও পরিবর্তনের দাবি উঠেছে। ‘পরিবর্তন যাত্রা’ সেই মনোভাবের সঙ্গে পুনঃসংযোগের প্রচেষ্টা।”

দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মধ্যে জে.পি. নাড্ডা ও রাজনাথ সিংসহ শীর্ষ নেতাদের এই যাত্রায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

২০১৯ সালে ১৮টি লোকসভা আসন জিতে এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে আসার পর ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি জোরদার প্রচার চালায়। তবে ব্যাপক সমাবেশ ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সক্রিয় উপস্থিতি সত্ত্বেও তারা তৃণমূল সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ব্যর্থ হয়।