ভোপালের বড়া তালাওয়ে এবার কাশ্মীরের শিকারার স্বাদ— নতুন জল-পর্যটনে জোয়ার মধ্যপ্রদেশে

Story by  Sampee Chakroborty Purkayastha | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 1 Months ago
ভোপালের বড়া তালাওয়ে এবার কাশ্মীরের শিকারার স্বাদ— নতুন জল-পর্যটনে জোয়ার মধ্যপ্রদেশে
ভোপালের বড়া তালাওয়ে এবার কাশ্মীরের শিকারার স্বাদ— নতুন জল-পর্যটনে জোয়ার মধ্যপ্রদেশে
 
শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ 

কাশ্মীরের ডাল লেকে শিকারা চড়ার স্বপ্ন অনেকেরই থাকলেও ইচ্ছেমতো উপত্যকায় পৌঁছে যাওয়া সবার পক্ষে সম্ভব হয় না। ঠিক সেই কারণেই দেশের অন্য এক পর্যটন কেন্দ্রে প্রথমবার কাশ্মীরি অভিজ্ঞতাকে সামনে এনে নতুন দিশা দেখাল মধ্যপ্রদেশ। কাশ্মীরের পরে এবার ভোপালের বড়া তালাওয়ের জলে ভাসছে শিকারা—রাজ্য পর্যটনে যা তৈরি করেছে বাড়তি আকর্ষণ।

পর্যটকদের জন্য মধ্যপ্রদেশ পর্যটনের এই বিশেষ উদ্যোগকে ঘিরে ইতিমধ্যেই উৎসাহ চোখে পড়ছে। রাজধানী ভোপালে বেড়াতে গেলে এখন নতুন অভিজ্ঞতা হিসেবে হাতে যোগ হচ্ছে শিকারা ভ্রমণ। ডাল লেকের মতো করে সাজানো এই শিকারাগুলির নকশা তৈরি করেছে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, যারা পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা ও অসমের পর্যটন ক্ষেত্রেও কাজ করেছে। প্রথম দফায় মোট ২০টি শিকারা নামানো হয়েছে বড়া তালাওয়ে।

জল-পর্যটনকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরতেই এই প্রকল্পের সূচনা হয়েছে বলে জানাচ্ছে রাজ্যের পর্যটন দপ্তর। বড়া তালাওয়ের নীরব, বিস্তৃত জলরাশির উপর দিয়ে শিকারায় ভেসে বেড়াতে বেড়িয়ে মিলবে প্রকৃতির রূপ উপভোগ করার সুযোগ। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে পাখি দেখার ব্যবস্থা—শিকারার মধ্যেই রাখা হয়েছে দূরবীন, যাতে পর্যটকরা আরও কাছে থেকে পরিযায়ী ও জলচর পাখিদের পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।

এখানেই শেষ নয়—শিকারায় ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলতে যোগ হয়েছে স্থানীয় পণ্য কেনাকাটার সুযোগ। জৈব উপায়ে ফলানো শাকসবজি, ফল, এবং মধ্যপ্রদেশের শিল্পীদের তৈরি নানা হস্তশিল্প ভাসমান এই নৌকাতেই পাওয়া যাবে। পর্যটকেরা চাইলে শিকারার উপর বসেই কিনে নিতে পারবেন এই সামগ্রীগুলি। সঙ্গে রয়েছে স্থানীয় খাবারের স্বাদ পাওয়ার ব্যবস্থা—অতিথিরা জলযাত্রায় বসেই চেখে দেখতে পারবেন রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী রান্না।

পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়েও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। ব্যবহৃত উপকরণগুলি দূষণ রোধী—জলের সঙ্গে কোনও রাসায়নিক বিক্রিয়া হয় না, ফলে বড়া তালাওয়ের পরিবেশগত ভারসাম্য অক্ষুণ্ণ থাকবে বলে আশাপ্রকাশ করেছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।

পর্যটনের নতুন দিক উন্মোচন করার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও উত্সাহ যোগাবে এই উদ্যোগ। শিকারা পরিষেবার কারণে বাড়বে কর্মসংস্থান, জনপ্রিয়তা পাবে স্থানীয় হস্তশিল্প ও জৈব কৃষিজ পণ্য। কাশ্মীর না গিয়েও সেই সৌন্দর্যের অনুভূতি মিলবে দেশের মধ্যেই—এই প্রতিশ্রুতি নিয়েই এগোচ্ছে ভোপাল পর্যটন।

বড়া তালাওয়ের শান্ত জলে শিকারা ভেসে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলছে মধ্যপ্রদেশে। পর্যটকেরা বলছেন, রাজধানীর বুকে এমন অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে ভোপাল ভ্রমণের মানচিত্রে নতুন রঙ যোগ করেছে।